সেদিন টি-২০ বিশ্বকাপের সুপার এইটের ম্যাচে প্রথমে বোলিং করে ভারত। দক্ষিণ আফ্রিকা ১৮৭ রান করে। পরে ব্যাট করতে নেমে মাত্র ১১১ রানে অলআউট হয়ে যায় টিম ইন্ডিয়া। ৭৬ রানের বড় ব্যবধানে ম্যাচ হারে ভারত। এই বড় হার ভারতের সেমিফাইনালে ওঠার সম্ভাবনায় বড় ধাক্কা দিতে পারে।
শেহওয়াগ ভারতীয় ব্যাটিং নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি কোনও রাখঢাক না করে বলেছেন, দলের ব্যাটিং ছিল হতাশাজনক। বিশেষ করে টপ অর্ডার সুপার ফ্লপ।
advertisement
শেহওয়াগ উদাহরণ হিসেবে বিরাট কোহলির কথা টেনে আনেন। তাঁর মতে, কোহলি জানেন কীভাবে এমন বড় রান তাড়া করতে হয়! তিনি বলেন, দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে প্রতিটি ব্যাটারেরই ‘কোহলি’ হওয়ার সুযোগ ছিল, কিন্তু কেউই সেই দায়িত্ব নিতে পারেনি এবং দলকে জয়ের পথে নিয়ে যেতে ব্যর্থ হয়েছেন।
তিনি বলেছেন, “ভারতীয় দল ১৬০ রানের বেশি তাড়া করে জিতেছে কেবল তখনই, যখন কোহলি রান করেছে। তা ছাড়া বিশ্বকাপে ১৬০-এর বেশি রান তাড়া করে ভারত কখনও জেতেনি। আর বেশিরভাগ সময়ই তিনি নট আউট থাকতেন—৮০*, ৬০* বা ৫০*—কোহলি ম্যাচ শেষ করত। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে কে ম্যাচ শেষ করল? এই বিশ্বকাপে কোনও ব্যাটার ম্যাচ ফিনিশ করেছে? গতকাল অনেকেরই সুযোগ ছিল ‘বিরাট কোহলি’ হওয়ার”।
তিনি আরও যোগ করেন, “তিলক বর্মার সুযোগ ছিল। সূর্যকুমার যাদবের সুযোগ ছিল। শিবম দুবের সুযোগ ছিল। হার্দিক পান্ডিয়ার সুযোগ ছিল। কাউকে না কাউকে বিরাট কোহলি হতে হবে। কাউকে ম্যাচ শেষ করতে হবে। কাউকে শিখতে হবে—কোহলি কীভাবে ম্যাচ শেষ করত। আমরা স্ট্রাইক রেট নিয়ে কথা বলি। ঠিক আছে, আমি মানছি স্ট্রাইক রেট গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু রান তাড়া করার সময় স্কোরবোর্ড সামনে থাকে। তখন পরিস্থিতি বুঝে খেললেই ম্যাচ জেতা যায়। তখন স্ট্রাইক রেট ততটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। তাই আমার মনে হয়, খেলোয়াড়দের দায়িত্ব নিতে হবে।”
আরও পড়ুন- একটি ম্যাচ জিতেও সেমিফাইনালে যেতে পারে ভারত! কী বলছে পয়েন্ট টেবিলের লেটেস্ট অঙ্ক? জেনে নিন
তিনি আরও বলেন, “সূর্যকুমারের কথাই ধরা যাক। তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে যেভাবে খেলেছেন, সেটি তাঁর স্বাভাবিক খেলা নয়। মনে হচ্ছিল তিনি চাপে খেলছেন, নিজেকে বাঁচানোর চেষ্টা করছেন। এভাবে খেললে জেতা কঠিন। ভারতকে নির্ভীক ক্রিকেট খেলতে হবে”।
