সামাজিক মাধ্যমে এই খবর শেয়ার করে অনায়া পুরো প্রক্রিয়ার আবেগঘন অভিজ্ঞতা এবং তার পাশে থাকা সমর্থন ব্যবস্থার কথা তুলে ধরেন। তাঁর পোস্টে হাসপাতালের একটি ছবিও ছিল, যেখানে অস্ত্রোপচারের পর তিনি তার বাবার সঙ্গে রয়েছেন। সেই মুহূর্তকে তিনি অত্যন্ত অর্থবহ বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি জানান, এই যাত্রা শুধু তাঁর নিজের জন্যই নয়, পুরো পরিবারের জন্যই চ্যালেঞ্জিং ছিল। কারণ সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাঁরা গ্রহণযোগ্যতা ও বোঝাপড়ার মধ্যে দিয়ে এগিয়েছেন।
advertisement
তিনি লেখেন, “এই যাত্রা আমার জন্য সহজ ছিল না, আমার পরিবারের জন্যও কঠিন ছিল। আমাকে বোঝা, আমাকে মেনে নেওয়া এবং আমার পাশে দাঁড়াতে সময় লেগেছে সবার। এটা এক মুহূর্তে হয়নি। আমাদের সবার মধ্যেই বিভ্রান্তি, প্রশ্ন এবং ধীরে ধীরে বেড়ে ওঠার মুহূর্ত ছিল। কিন্তু আজ এখানে দাঁড়িয়ে আমি শুধু কৃতজ্ঞতায় ভরে আছি।”
তিনি এই সময়ে তাঁর বাবার ভূমিকাও বিশেষভাবে তুলে ধরেছেন। অনয়া লিখেছেন, “আমার জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলোর একটিতে বাবাকে পাশে পাওয়া আমার কাছে সব থেকে বড় ব্যাপার। তাঁর সমর্থন একদিনে আসেনি, কিন্তু যখন এসেছে, তা ছিল সত্যিকারের, নিঃশর্ত এবং শক্তিশালী। এই সার্জারি আমার জন্য বড় একটি পদক্ষেপ ছিল, কিন্তু তাকে পাশে পাওয়ায় সবকিছু সম্ভব মনে হয়েছে। পরিবর্তন সময় নেয়। ভালোবাসাও সময় নেয়। কিন্তু যখন তা আসে, তখন তা সবকিছুর মূল্য রাখে। কৃতজ্ঞ। সবসময়,”—তিনি আরও যোগ করেন।
অনয়ার এই যাত্রা গত কয়েক বছরে ধীরে ধীরে গড়ে উঠেছে।ন তিনি একজন ট্রান্সজেন্ডার নারী হিসেবে নিজের পরিচয়কে গ্রহণ করেন। এর আগে তিনি আরিয়ান নামে পরিচিত ছিলেন। তাঁর বাবা সঞ্জয় বাঙ্গারের পথ অনুসরণ করে ক্রিকেট খেলতেন তিনি। মুম্বই অনূর্ধ্ব-১৬, পন্ডিচেরি অনূর্ধ্ব-১৯ ট্রায়ালস এবং মুম্বই অনূর্ধ্ব-২৩ ট্রায়াল-সহ বিভিন্ন বয়সভিত্তিক দলে অংশগ্রহণ করেছিলেন।
আরও পড়ুন- রাখ-ঢাকের দিন খতম, হর্ষিত রানাকে নিয়ে ‘মেগা’ আপডেট দিলেন কেকেআরের কোচ
তাঁর এই রূপান্তরের যাত্রা ২০২৩ সালে আরও প্রকাশ্যে আসে। অনয়া হরমোন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি (HRT) শুরু করেন এবং সেই প্রক্রিয়ার বিভিন্ন দিক সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করতে থাকেন। তবে জানা গিয়েছে, আপাতত অনয়া ক্রিকেটে ফিরতে পারবেন না।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে অনয়া তাঁর এই যাত্রা নিয়ে খোলাখুলি কথা বলেছেন। সেখানে তিনি যেমন পাওয়া সমর্থনের কথা বলেছেন, তেমনি কঠিন অভিজ্ঞতাগুলোর কথাও তুলে ধরেছেন।
