ভারতের ইনিংস শুরু থেকেই চাপে পড়ে। মাত্র ৭১ রানের মধ্যে চারটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট হারিয়ে কার্যত ম্যাচ থেকে ছিটকে যাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়। সেই সময় দায়িত্ব নেন অভিজ্ঞ ব্যাটার বিরাট কোহলি। চরম চাপের মধ্যেও তিনি ধৈর্য ও নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে ব্যাটিং করেন। ১০৮ বলে ১২৪ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলে তিনি প্রায় একাই ভারতের লড়াই চালিয়ে যান।
advertisement
কোহলির ইনিংসে ছিল সংযম ও দৃঢ়তা। অন্য প্রান্তে একের পর এক উইকেট পড়লেও তিনি নিজের ছন্দ হারাননি। প্রয়োজন অনুযায়ী রানের গতি বাড়িয়েছেন, আবার পরিস্থিতি বুঝে খেলেছেন রক্ষণাত্মক ক্রিকেট। এটি ছিল তাঁর ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ৫৪তম শতরান, যা দর্শকদের পাশাপাশি সতীর্থদের কাছেও প্রশংসা কুড়ায়। তরুণ অধিনায়ক শুভমান গিল ম্যাচ শেষে কোহলির ব্যাটিংয়ের ভূয়সী প্রশংসা করেন।
ম্যাচ শেষে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে গিল বলেন,”দলে কোহলির থাকা মানেই দলের জন্য বড় ইতিবাচক দিক। BFরাট যেভাবে ব্যাট করছে, সেটা সবসময়ই দলের জন্য প্লাস পয়েন্ট। এই সিরিজে হর্ষিত যেভাবে ব্যাট করেছে, আট নম্বরে ব্যাট করা সহজ নয়। সে যেভাবে দায়িত্ব নিয়েছে, আর ফাস্ট বোলাররাও যেভাবে এই সিরিজে বোলিং করেছে, সেটাও ভালো ছিল,” বলেন গিল। তবে ভারতীয় একদিনের দল যেভাবে এখনও কোহলি নির্ভরতায় চলছে তা দলের সমস্যা বাড়াতে পারে বলেই মনে করছেন ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা।
ম্যাচে নিতিশ কুমার রেড্ডি (৫৩) ও হর্ষিত রানা (৫২) কিছুটা লড়াইয়ের চেষ্টা করেন, তবুও বাড়তে থাকা রান রেট ভারতের সামনে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। ব্যাটিং সহায়ক পিচ ও ছোট বাউন্ডারি থাকা সত্ত্বেও ভারত লক্ষ্যে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়। ম্যাচ শেষে গিল জানান, দলের কিছু দুর্বল জায়গা নিয়ে তারা হতাশ এবং ভবিষ্যতে সেগুলি নিয়ে কাজ করবেন।
আরও পড়ুনঃ টি-২০ বিশ্বকাপ থেকে বাদ যেতে পারে বাংলাদেশ! টাইগার্সদের শেষ ওয়ার্নিং আইসিসির!
এর আগে ব্যাট করতে নেমে নিউজিল্যান্ড শুরুতে বিপদে পড়লেও ড্যারিল মিচেল ও গ্লেন ফিলিপস দুর্দান্ত জুটি গড়ে দলকে বড় সংগ্রহ এনে দেন। মিচেল করেন ১৩৭ রান, আর ফিলিপস খেলেন ঝলমলে ১০৬ রানের ইনিংস। তাদের ২১৯ রানের জুটিই ম্যাচের পার্থক্য গড়ে দেয়। শেষ পর্যন্ত ঠাণ্ডা মাথায় খেলে নিউজিল্যান্ড ভারতে এক স্মরণীয় সিরিজ জয় তুলে নেয়।
