এমনিতে ট্রেন সফরের মধ্যে অস্বাভাবিকতা কিছু না থাকলেও সহযাত্রীরা তাঁকে চিনে ফেললেন ট্রেনের ভিতরে অথবা স্টেশনে কী অবস্থা হতে পারত, তা সহজেই অনুমেয়৷ আর তা আগাম আন্দাজ করেই ব্যবস্থাও নিয়েছিলেন ভারতীয় অলরাউন্ডার৷
তার পরেও অবশ্য শিবম দুবেকে প্রায় চিনে ফেলেছিলেন টিকিট পরীক্ষক৷ কিন্তু উপস্থিত বুদ্ধি টিকিট পরীক্ষককে বোকা বানান দুবের স্ত্রী৷
advertisement
জানা গিয়েছে বিশ্বকাপ ফাইনালের পর নিজের স্ত্রী অঞ্জুম খান এবং এক বন্ধুর সঙ্গে মুম্বইয়ে ফেরার কথা ছিল দুবের৷ কিন্তু আহমেদাবাদ থেকে মুম্বই ফেরার কোনও বিমানেরই টিকিট পাননি ভারতীয় তারকা৷
দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে শিবম দুবে জানিয়েছেন, ‘কোনও বিমানেই টিকিট ছিল না৷ তাই আমি ভোরবেলা আহমেদাবাদ থেকে ট্রেন ধরে মুম্বাই যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিই৷ ট্রেনের থ্রি এসি-র টিকিট পাওয়া যাচ্ছিল৷ আমি, আমার স্ত্রী এবং এক বন্ধু ট্রেনেই ফেরার সিদ্ধান্ত নিই৷ প্রত্যেকেই অবশ্য আমাদের ট্রেনে সফর করতে বারণ করেছিলেন৷ কারণ কেউ আমাকে স্টেশনে অথবা ট্রেনে চিনে ফেললে কী হবে, তা ভেবেই উদ্বিগ্ন ছিলেন তাঁরা৷’
দুবে জানিয়েছেন ভক্তদের বোকা বানাতে তিনি একটি টুপি এবং মুখে মাস্ক পরে নিয়েছিলেন৷ ফুলহাতা জামাও পরেন তিনি৷ কিন্তু ট্রেনেও ভক্তদের তাঁকে চিনে ফেলার সম্ভাবনা ছিল৷ দুবে বলেন, ‘আমি আমার স্ত্রীকে বলেছিলাম আমি স্টেশনের বাইরে গাড়িতে অপেক্ষা করব৷ ট্রেন ছাড়ার পাঁচ মিনিট আগে আমি ছুটে গিয়ে ট্রেনে উঠে পড়ব৷’
ট্রেনে উঠেই একদম উপরের বার্থে উঠে পড়েন দুবে৷ ফলে সহযাত্রীরা কেউ সেভাবে তাঁকে চিনতে পারেননি৷ তার উপর ভোর ৫.১০ মিনিটের ট্রেন হওয়ায় অধিকাংশ যাত্রীই তখন ঘুমোচ্ছিলেন৷
শিবম দুবে এবং তাঁর স্ত্রী অঞ্জুম খান৷
কিন্তু সব পরিকল্পনাই ভেস্তে দিচ্ছিলেন ট্রেনের টিকিট পরীক্ষক৷ টিকিট পরীক্ষা করতে এসে শিবম দুবে নাম দেখেই তিনি জিজ্ঞেস করেন, ‘ইনি কি ক্রিকেটার শিবম দুবে?’ সঙ্গে সঙ্গে দুবের স্ত্রী বলেন, ‘না না, ক্রিকেটার শিবম দুবে এখানে কোথা থেকে আসবেন?’ দুবের স্ত্রীর কথায় বিশ্বাস করে সরল মনেই ফিরে যান টিকিট পরীক্ষক৷
দুবে জানিয়েছেন, এটুকু বাদ দিয়ে ট্রেন সফরে তাঁদের কোনও অসুবিধাই হয়নি৷ কিন্তু মুম্বইয়ে দুপুর বেলা যখন ট্রেন পৌঁছবে তখন স্টেশনে ভক্তদের হাত থেকে বাঁচা মুশকিল ছিল৷ তাই আগেভাগেই পুলিশকে খবর দিয়ে রাখেন ভারতীয় তারকা৷ দুবে জানিয়েছেন, তিনি ট্রেনে আসছেন শুনে পুলিশও অবাকই হয়ে গিয়েছিল৷ যদিও শেষ পর্যন্ত বোরিভালি স্টেশনে আগে থেকেই পর্যাপ্ত পরিমাণে পুলিশ কর্মী মোতায়েন করা হয়৷ তাঁরাই ভারতীয় তারকাকে নির্বিঘ্নে স্টেশন থেকে বের করে নিয়ে যান৷
