টসে জিতে শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক দাশুন সনাকা প্রথমে বল করার সিদ্ধান্ত নেন। অনেকেই অবাক হয়েছিলেন, কারণ পরে ব্যাট করাই যেন তুলনামূলক নিরাপদ মনে হচ্ছিল। তবে শ্রীলঙ্কার লক্ষ্য পরিষ্কার ছিল—সমীকরণ নয়, জয় দিয়ে টুর্নামেন্ট শেষ করা। পাকিস্তান অধিনায়ক সলমন আঘা টসে বলেন, তাঁরাও নাকি আগে বল করতেন! যে দলকে নির্দিষ্ট ওভারের মধ্যে রান তাড়া করতে হত, তাদের অধিনায়কের মুখে এমন মন্তব্য স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন তুলেছে।
advertisement
আরও পড়ুন: আজই গ্রুপ-সি নিয়োগের পরীক্ষা! চপ্পল পরে ঢুকতে হবে পরীক্ষা কেন্দ্রে, কেন? জারি একাধিক নিয়ম
ব্যাট করতে নেমে অবশ্য পাকিস্তানের শুরুটা ছিল আগুনঝরা। প্রথম একাদশে পরিবর্তন এনে সাইম আয়ুব-এর বদলে ওপেন করতে নামেন ফখর জামান, সঙ্গে ছিলেন সাহিবজাদা ফারহান। দু’জনেই শুরু থেকে আক্রমণাত্মক মেজাজে খেলেন। প্রতি ওভারে গড়ে ১০-এর বেশি রান ওঠে। শ্রীলঙ্কার বোলাররা লাইন-লেন্থ খুঁজে পাননি, তার উপর খারাপ ফিল্ডিংয়ে চাপ আরও বাড়ে।
পাল্লেকেলের মন্থর পিচে সাধারণত স্পিনাররা সুবিধা পান, কিন্তু এ দিন তেমন প্রভাব দেখা যায়নি। অবশেষে ১৬তম ওভারে Dushmantha Chameera ফখরকে (৮৪) ফেরান। তখন পাকিস্তানের রান ১৭৬—মনে হচ্ছিল ২২০-র কাছাকাছি পৌঁছনো সময়ের অপেক্ষা।
আরও পড়ুন: শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে পাকিস্তানের রেকর্ড রান! টি২০ ফরম্যাটে বিরাট কোহলির রেকর্ড ভাঙলেন ফারহান
কিন্তু সেখানেই ধস। ফারহান শতরান করলেও মাঝের সারির ব্যাটাররা দায়িত্ব নিতে পারলেন না। Shadab Khan, Mohammad Nawaz, খাওয়াজা নাফে—কেউই ইনিংস বড় করতে পারলেন না। প্রথম উইকেট পড়ে ১৭৬ রানে, আর সেখান থেকে মাত্র ৩৬ রানের মধ্যে পড়ে যায় আটটি উইকেট। শেষ পর্যন্ত স্কোর দাঁড়ায় ২১২/৮—যা লড়াই করার মতো হলেও সেমিফাইনালের সমীকরণ মেটানোর জন্য যথেষ্ট ছিল না।
শ্রীলঙ্কা রান তাড়ায় দ্রুত এগোতে থাকে। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ১৬ ওভারে তাদের স্কোর ১৫০/৫—যা পাকিস্তানের শেষ আশা ভেঙে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট।
শুরুর দাপট, মাঝের ধস—এই ম্যাচ যেন পাকিস্তানের টুর্নামেন্ট অভিযানেরই প্রতিচ্ছবি। সম্ভাবনা ছিল, কিন্তু শেষমেশ তা বাস্তবে রূপ পেল না।
