পাকিস্তানের এই পদক্ষেপ আসলে হাওয়ায় তীর ছোড়ার মতোই। ইতিহাস বলছে, রাজনৈতিক চাপ তৈরির জন্য পাকিস্তান আগেও বহুবার এই ধরনের হুমকি দিয়েছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাদের মাঠে নামতেই হয়েছে। কারণ তারা ভালোভাবেই জানে, আইসিসির সঙ্গে সংঘাতে যাওয়া মানে পাকিস্তান ক্রিকেটের ডেথ ওয়ারেন্টে সই হয়ে যাওয়া।
আর্থিক সংকটে জর্জরিত পিসিবি (PCB)-র জন্য এই বয়কট কোনো বীরত্ব নয়, বরং আত্মঘাতী সিদ্ধান্তে পরিণত হতে পারে। পাকিস্তান ভাল করেই জানে, এই বয়কট তাদের ক্রিকেট অর্থনীতি ধ্বংস করে দেবে। সেই কারণেই বাস্তবে ১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোর মাঠে ভারতের বিরুদ্ধে খেলতে নামতে পাকিস্তান ক্রিকেট দল বাধ্য হতে পারে।
advertisement
পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য যে সব শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে, তার তালিকা দেখে নিন—
১. আইসিসি ফান্ড বন্ধ- পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (PCB) মোট বাজেটের ৫০ শতাংশেরও বেশি আসে আইসিসি-র রেভিনিউ শেয়ার থেকে। ভারত-পাকিস্তান ম্যাচই আইসিসির আয়ের প্রধান ইভেন্ট। যদি পাকিস্তান এই ম্যাচ বয়কট করে আইসিসি তাদের বার্ষিক ফান্ড বন্ধ করে দিতে পারে। ঘরোয়া ক্রিকেট থেকে তাদের কাছে এত আয়ের উৎস নেই।
২. ‘পূর্ণ সদস্যপদ’ স্থগিত হওয়ার আশঙ্কা- আইসিসি-র সংবিধান অনুযায়ী, কোনও সদস্য দেশ বড় টুর্নামেন্টের বাণিজ্যিক স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে না। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ‘কন্ডাক্ট ব্রিচ’-এর মামলা চালিয়ে তাদের পূর্ণ সদস্যপদ বাতিল বা স্থগিত করা হতে পারে। এর অর্থ—ভবিষ্যতে পাকিস্তান কোনো দেশের সঙ্গেই সরকারিভাবে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলতে পারবে না।
৩. আর কখনও আইসিসি ইভেন্টের আয়োজন নয়- ২০২৬ বিশ্বকাপে যদি পাকিস্তান ভারতের বিরুদ্ধে না খেলে তা হলে আইসিসি ভবিষ্যতে তাদের কোনও বড় টুর্নামেন্ট আয়োজনের অযোগ্য ঘোষণা করতে পারে। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ২০২৫-এর আয়োজন এমনিতেই বিতর্কে ঘেরা। তার ওপর পাকিস্তানের এই সিদ্ধান্ত তাদের বড় বিপদে ফেলতে পারে।
ICC-র যে নিয়মগুলি অনুযায়ী তদন্ত শুরু হতে পারে-
১) কমার্শিয়াল ড্যামেজ নিয়ম (Commercial Damage Rule)
আইসিসি-র সাথে হওয়া চুক্তি অনুযায়ী, প্রতিটি সদস্য দেশ বাধ্য টুর্নামেন্টের বাণিজ্যিক স্বার্থরক্ষায়। ভারত বনাম পাকিস্তান ম্যাচটি আইসিসির মোট আয়ের প্রায় ৪০% থেকে ৫০% পর্যন্ত রেভিনিউ জেনারেট করে। যদি পাকিস্তান ইচ্ছাকৃতভাবে এই ম্যাচ না খেলে, তাহলে এটিকে গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে দেখা হবে। এর ফলে আইসিসির অধিকার রয়েছে পাকিস্তানের ‘রেভিনিউ শেয়ার’ সম্পূর্ণভাবে স্থগিত/রোধ করার।
২) আইসিসি সংবিধান—ধারা ২.১০ (ICC Constitution Section 2.10)
আইসিসি সংবিধান অনুযায়ী, কোনো সদস্য দেশ যদি ক্রিকেটের স্বার্থের বিরুদ্ধে কাজ করে বা নিয়ম মেনে চলতে ব্যর্থ হয়, তা হলে বোর্ডের কাছে তার সদস্যপদ সাসপেন্ড (স্থগিত) করার ক্ষমতা থাকে। ২০১৯ সালে জিম্বাবোয়ে এবং সম্প্রতি শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ডের স্থগিতাদেশ এর তাজা উদাহরণ।
আরও পড়ুন- টি২০ বিশ্বকাপ খেলবে পাকিস্তান! বড় ঘোষণা, কিন্তু ICC-কে চাপে ফেলতে বড় চক্রান্ত
৩) দ্বিপাক্ষিক সিরিজে নিষেধাজ্ঞা (Bilateral Series Ban)
যদি কোনও দেশের সদস্যপদ স্থগিত হয়, তা হলে আইসিসি-র FTP (Future Tours Programme) সেই দেশের জন্য বাতিল হয়ে যায়। এর অর্থ, অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড বা দক্ষিণ আফ্রিকা মতো দেশগুলোও পাকিস্তানের সাথে কোনো অফিসিয়াল ম্যাচ খেলতে পারবে না।
