( ওগবেচে )
এটিকে মোহনবাগান - ০
কলকাতা: শেষ ম্যাচে জামশেদপুরের বিরুদ্ধে ড্র করার পর হায়দ্রাবাদ এর বিরুদ্ধে মোহনবাগান জিতবে এমন সম্ভাবনা ছিল খুবই কম। কারণ বর্তমান ফর্মের বিচারে সবুজ মেরুন শিবিরের গ্রাফ ছিল অত্যন্ত নিচে। তবে শুরুটা খারাপ করেনি তারা। দিমিত্রি, গায়েগো, মনবির চেষ্টা করছিলেন গতবারের চ্যাম্পিয়নদের ডিফেন্স ভাঙার। কিন্তু লিস্টন কোলাসো গত বছরের ছায়া মাত্র।
advertisement
না পারছেন পাস দিতে, না পারছেন গোল করতে। বল ধরে রাখার ক্ষমতাও নেই। আশীষ রাই প্রচন্ড পরিশ্রম করলেন। এদিন ছিলেন না শুভাশিস। তাই প্রথম থেকেই ডিফেন্সে হামিলের পাশে ছিলেন স্লাভকো। মনে হচ্ছিল খেলাটা শেষ পর্যন্ত ড্র হবে। হয়তো চ্যাম্পিয়নদের ঘরের মাঠ থেকে একটি পয়েন্ট নিয়ে ফিরবে সবুজ মেরুন। কিন্তু সেটা হতে দিলেন না বার্ট ওগবেচে।
টুর্নামেন্টের ইতিহাসে সর্বোচ্চ স্কোরার ৮৫ মিনিটে দুরন্ত গোল করে হায়দরাবাদকে ৩ পয়েন্ট এনে দিলেন। তার দুমিনিট আগেই নেমে ছিলেন নাইজেরিয়ান স্ট্রাইকার। শরীরের মোচরে বোকা বানালেন স্লাভকোকে। তারপর ডান পায়ের শট কোনাকুনি জড়িয়ে গেল জালে। নকআউট নিশ্চিত হয়ে গেল হায়দরাবাদের।
আবার একটা হার নিয়ে ফিরতে হল হুয়ান এবং তার দলকে। চোটের জন্য আগেই হায়দরাবাদ ম্যাচ থেকে ছিটকে গিয়েছিলেন কার্ল ম্যাকহাগ। সেই তালিকায় নাম লেখান হুগো বোমাস। হ্যামস্ট্রিংয়ের চোট সারিয়ে রবিবার অনুশীলনে ফিরেছিলেন ফরাসি মিডিও। তবে দ্রুত স্প্রিন্ট টানতে গেলে এখনও ব্যথা অনুভব করছেন তিনি।
তাই কোনওরকম ঝুঁকি না নিয়ে বোমাসকে ছাড়াই হায়দরাবাদ ম্যাচ খেলতে শহর ছেড়েছিল এটিকে মোহন বাগান। ১৭ ম্যাচে ২৮ পয়েন্ট নিয়ে লিগ টেবিলে চতুর্থ স্থানে হুয়ান ফেরান্দোর দল। এক ম্যাচ বেশি খেলে সমসংখ্যক পয়েন্ট নিয়ে ঘাড়ের উপর নিঃশ্বাস ফেলছে বেঙ্গালুরু এফসি। গোয়া ও ওড়িশার ঝুলিতে ২৭ পয়েন্ট। ফলে আরও একটা খারাপ ফল মানেই নক-আউটের পথ কঠিনতর হবে দিমিত্রি-প্রীতমদের।
যদিও অঙ্কের লড়াইয়ে মাথা না ঘামিয়ে হায়দরাবাদ এফসি’র বিরুদ্ধে জিতে প্রথম ছয়ে স্থান পাকা করাই লক্ষ্য ফেরান্দোর। তবে নিজামের শহরে লড়াইটা যে সহজ হবে না, তা ভালোভাবেই জানতেন বাগান কোচ। মঙ্গলবার ওগবেচেদের বিরুদ্ধে হার এড়ানোই এখন বড় চ্যালেঞ্জ কোচ ফেরান্দোর।
কিন্তু সেটা আর হল না। উল্টে মোহনবাগান সমর্থকদের চিন্তা আরও বাড়ল গ্লেন এবং পুতিয়া দুজনেই চোট পেয়ে মাঠ ছাড়লেন। শেষ ৬ থাকার রাস্তা ক্রমশ কঠিন করে ফেলছে মোহনবাগান কোচের দল। ক্রমশ বিরক্ত হয়ে পড়ছেন সমর্থকরা।
