কিন্তু ক্লাবের নামের আগে 'এটিকে' কিংবা এটিকে নামক একদা থাকা একটি ক্লাবের সঙ্গে মোহনবাগানের 'মার্জার' শব্দটি মানা যায় না। এবিষয়ে সদস্য, সমর্থক, শুভানুধ্যায়ীদের 'রিমুভ এটিকে' আন্দোলন সঠিক। মোহনবাগানের একজন সমর্থক হিসেবে আমিও চাই 'এটিকে' সরিয়ে লগ্নিকারীরা বিকল্প কিছু করুন। ক্লাবের সহসভাপতি পদে আসার পর কর্মসমিতির বৈঠকে আমিই বিষয়টি তুলেছিলাম।
advertisement
আরও পড়ুন - আরব্য রজনীর নতুন অধ্যায়! বাহারিনের পুরুষ দলের দায়িত্বে নারী কোচ ফতিমা
ঠিক হয় সচিব এবিষয়ে লগ্নিকারীদের এবং বিশেষভাবে সঞ্জীববাবুর সঙ্গে কথা বলবেন। এটাও ঠিক, যে একবার চুক্তির পর লগ্নিকারীদের কথাও ক্লাবের মেনে চলার বাধ্যবাধকতা থাকে। যে সময় টাকার দরকার ছিল, না হলে আইএসএল খেলা হত না, তখন শ্রী গোয়েঙ্কা এগিয়ে আসাতেই সমস্যার সমাধান হয়েছিল। কিন্তু, জট হল 'এটিকে' নিয়ে।
এর বাইরে লগ্নিকারীকে নিয়ে কোনও আপত্তি সমর্থকদের নেই। আমি মনেপ্রাণে বিশ্বাস করি, প্রথম থেকেই 'এটিকে' এড়িয়ে বিকল্প সবকটি পথের সন্ধান করলে আজকের এই পরিস্থিতি হত না। তখন যাঁরা এই প্রক্রিয়ার ভগীরথ ছিলেন, তাঁরা এখন পরস্পরের দিকে দায়িত্বের বল ঠেলে দেওয়াটা হাস্যকর। ১০/১০/২২ তারিখে ক্লাবের তরফ থেকে যে বিবৃতি দেওয়া হয়েছে, তার বয়ানের অনেকাংশে আমারও আপত্তি থাকছে।
ওই বিবৃতি তড়িঘড়ি করে দিতে গিয়ে অনভিপ্রেত বিতর্ক সামনে এসেছে। আমার মতে, এটা সচিব বনাম প্রাক্তন সচিব যুদ্ধে পরিণত না হয়ে 'এটিকে' জট খোলার প্রক্রিয়া হওয়া দরকার। নতুন কর্মসমিতিতে আমার প্রথম বৈঠকেই বলেছি। বারবার বলেছি। আবার বলব। কী কী বলব, সেটা আজ এখানে লিখছি না।
পাশাপাশি, সদস্য সমর্থকদের কাছে অনুরোধ, আপনাদের আবেগ সঠিক। আপনারা প্রতিবাদ করতে পারেন। আপনারা মানে তো আমরাই, আমরা সবাই। কিন্তু সেটা লক্ষ্মীপুজোর দিন কোনও কর্তার বাড়ির সামনে হওয়া অবাঞ্ছিত। ক্লাবের বিষয় বাড়িতে যাবে কেন? প্রতিবাদ হতেই পারে। কিন্তু তার কিছু ধরণধারণ নিয়ে প্রশ্ন উঠলে আন্দোলনেরই ক্ষতি।
এবিষয়টিও সমানভাবে গুরুত্ব পাওয়া উচিত। একজন সমর্থক হিসেবে আমিও চাইব নানা কারণে সময় নষ্ট না হয়ে 'এটিকে' সরিয়ে বিকল্প ফর্মুলা কার্যকর হোক। আলোচনা, বিবৃতি এবং নিজেদের ঝগড়ায় সময় নষ্ট করে আসল সমস্যা জিইয়ে রাখলে সদস্য, সমর্থকদের বিরক্তি বাড়বেই। সবচেয়ে বড় কথা ঐতিহ্যশালী মোহনবাগানের নামের আগে অন্য ফুটবল ক্লাবের নাম চলতে পারে না।
