প্রথমার্ধে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ অনেকটাই ছিল মোহনবাগানের হাতে। শুরু থেকেই জামশেদপুর আগ্রাসী ফুটবল খেললেও ধীরে ধীরে খেলার রাশ নিজেদের হাতে নেয় সবুজ-মেরুন শিবির। ১০ মিনিটের মাথায় টম অলড্রেড সামান্য চোট পেলেও পরে স্বাভাবিক হয়ে ওঠেন।
এরপরই আসে ম্যাচের প্রথম গোল। শুভাশিস বসুর পাস থেকে বল পেয়ে দূরপাল্লার জোরালো শটে জাল কাঁপান লিস্টন কোলাসো। বারের নিচে লেগে বল জালে জড়াতেই গ্যালারিতে উল্লাসে ফেটে পড়েন মোহনবাগান সমর্থকেরা। এই গোলের মধ্য দিয়েই এ মরসুমে নিজের গোলখরা কাটান লিস্টন।
advertisement
তবে সুযোগ থাকা সত্ত্বেও ব্যবধান বাড়াতে পারেনি মোহনবাগান। ৩৫ মিনিটে সহজ একটি সুযোগ নষ্ট করেন জেমি ম্যাকলারেন। লিস্টনের তৈরি করা আক্রমণে ঠিক সময়ে বল ছুঁতে না পারায় নিশ্চিত গোল হাতছাড়া হয়। প্রথমার্ধের শেষে ১-০ ব্যবধানেই এগিয়ে থাকে তারা।
দ্বিতীয়ার্ধেও আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে মোহনবাগান। লিস্টন বারবার বিপক্ষ বক্সে হানা দিচ্ছিলেন, কিন্তু গোলরক্ষক অ্যালবিনো গোমস ও ডিফেন্ডার স্টিফেন এজ়ের বাধায় বারবার থেমে যায় আক্রমণ। ম্যাকলারেন ও রবসনকেও বেশিরভাগ সময় আটকে রাখে জামশেদপুরের রক্ষণ।
ম্যাচ যত এগোয়, ততই চাপ বাড়াতে থাকে জামশেদপুর। একের পর এক আক্রমণে মোহনবাগানের রক্ষণকে চাপে ফেলে তারা। ৮৪ মিনিটে বিশাল কাইথ গুরুত্বপূর্ণ সেভ করে দলকে বাঁচালেও পরের সুযোগ নষ্ট করে জামশেদপুর। তখনও মনে হচ্ছিল জয় নিশ্চিত মোহনবাগানের।
কিন্তু ম্যাচের শেষ মুহূর্তে বদলে যায় চিত্রনাট্য। বাঁ দিক থেকে মেসি বৌলির ভাসানো বল দূরের পোস্টে পেয়ে যান সম্পূর্ণ অরক্ষিত ঋত্বিক দাস। সহজ হেডে বল জালে জড়িয়ে সমতা ফেরান তিনি।
তার আগে ম্যাচের ৬০ মিনিটের মাথায় এক অদ্ভুত দৃশ্য দেখা যায়—দল পিছিয়ে থাকলেও জামশেদপুরের গ্যালারিতে আতসবাজিতে ভরে যায় স্টেডিয়াম। আর শেষমেশ সেই সমর্থকদেরই আনন্দে ভাসান ঋত্বিক, মোহনবাগানের হাত থেকে জয় ছিনিয়ে নিয়ে।
