কেকেআর হয়ে পারফর্ম করেই সুযোগ পেয়েছিলেন ভারতীয় দলে। খারাপ সময় কাটিয়ে জাতীয় দলের টি-২০ ক্রিকেটে স্পিন অ্যাটাকের সেরা অস্ত্রও হয়েছেন বরুণ। আইসিসি টি-২০ বোলিং র্যাঙ্কিংয়ে দখল করেছেন শীর্ষস্থান। তার স্পিনের ভেলকির সামনে নাকানিচোবানি খেয়েছে বিশ্বের তাবড় তাবড় ব্যাটার।
কিন্তু সেই বরুণ চক্রবর্তীই সদ্য সমাপ্ত টি-২০ বিশ্বকাপের মধ্যভাগ থেকে একেবারেই ছন্দে নেই। শুরুর দিকে কয়েকটি ম্যাচে উইকেট নিয়েছেন ঠিকই, সেই সৌজন্যেই প্রতিযোগিতায় বুমরারের সঙ্গে যৌথভাবে সর্বোচ্চ উইকেট (১৪) শিকারীও হয়েছেন।
advertisement
কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচ থেকেই ফিকে হতে শুরু করে বরুণের স্পিন ম্যাজিক। দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ৪ ওভারে ৪৭ রান দিয়ে ১ উইকেট নেন, জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে ৪ ওভারে ৩৫ রানে দিয়ে ১ উইকেট, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে ৪ ওভারে ৪০ রান দিয়ে ১ উইকেট, ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ৪ ওভারে ৬৪ রান দিয়ে ১ উইকেট, নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ফাইনালে ৩ ওভারে ৩৯ রান দিয়ে ১ উইকেট নেন।
টি-২০ বিশ্বকাপে শেষ কয়েকটি ম্যাচে হতাশাজনক বোলিংয়ের পর অনেকেই মনে করেছিলেন আইপিএল থেকে পুরনো ছন্দে পাওয়া যাবে বরুণকে। কিন্তু প্রথম ২ ম্যাচে অন্তত তা হল না। মুম্বইয়ের বিরুদ্ধে ৪ ওভারে ৪৮ রান দেন বরুণ আর হায়দরাবাদের বিরুদ্ধে মাত্র ২ ওভার বল করে খরচ করেন ৩১ রান। তাঁকে দিয়ে বল করানোর সাহসও দেখাতে পারেননি অধিনায়ক।
ফলে কেন এমন হাল হল কেকেআর ও ভারতের অন্যতম সেরা ম্যাচ উইনারের। সমালোচক ও ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন মার খেলে অনেক বেশি ডিফেন্সিভ বোলিং করে বাঁচার চেষ্টা করছেন বরুণ। কিন্তু তার আসল শক্তি অ্যাটাকিং বোলিং। মার খাওয়ার পর চাপের মধ্যে বল ফ্লাইট না করিয়ে দ্রুত বোলিং করছেন, যা ব্যাটারদের কাজ আরও সহজ করে দিচ্ছে। এছাড়া চাপের মধ্যে বেশি ভ্যারিয়েশনও দেখাতে পারছেন না বরুণ।
তবে এর আগেও খারাপ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে গিয়েছেন বরুণ চক্রবর্তী। জাতীয় দল থেকে বাদ পড়ার কঠিন অনুশীলন করে দুরন্ত কামব্যাক করেছেন। মাঝে কয়েক বছর রাজত্ব করার পর ফের একটি খারাপ সময়। আবারও নতুন লড়াই মিস্ট্রি স্পিনারের সামনে। পুরোনো ফর্মে বরুণকে দেখার অপেক্ষায় ফ্যানেরা।
