ফাইনালের টিকিটের সর্বোচ্চ মূল্য বাড়িয়ে ১০,৯৯০ ডলার (প্রায় ১০.১৯ লক্ষ টাকা) নির্ধারণ করেছে। এর আগে ডিসেম্বর মাসে ড্রয়ের পর এই মূল্য ছিল ৮,৬৮০ ডলার। ১৯ জুলাই মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালের দ্বিতীয় শ্রেণির টিকিটের দাম রাখা হয়েছে ৭,৩৮০ ডলার, যা আগে ছিল ৫,৫৭৫ ডলার। তৃতীয় শ্রেণির টিকিটের মূল্য বেড়ে হয়েছে ৫,৭৮৫ ডলার, যা আগে ছিল ৪,১৮৫ ডলার।
advertisement
আগে যেখানে ফাইনালের টিকিটের দাম তুলনামূলক কম ছিল, এবার তা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণির টিকিটের ক্ষেত্রেও একই ছবি দেখা গেছে। এই দাম বৃদ্ধির কারণ হিসেবে চাহিদা অনুযায়ী মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতির কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ, যত বেশি চাহিদা, তত বেশি দাম—এই নিয়মেই চলছে টিকিট বিক্রি।
বিশ্বকাপের ম্যাচগুলি অনুষ্ঠিত হবে বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে থাকা একাধিক শহরে। তবে এখনো সব ম্যাচের টিকিট একসঙ্গে ছাড়া হয়নি। ধাপে ধাপে টিকিট বিক্রি করা হচ্ছে, ফলে অনেক দর্শকই ঠিক সময়ে টিকিট পাচ্ছেন না। তাছাড়া টিকিট কেনার ওয়েবসাইটে ঢুকতেও অনেককে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে, যা নিয়ে অসন্তোষ বাড়ছে।
এই পরিস্থিতিতে অনেকেই অভিযোগ করছেন, এত বেশি দামের কারণে সাধারণ মানুষ মাঠে বসে খেলা দেখার সুযোগ হারাচ্ছেন। এমনকি কিছু রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বও এই বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের মতে, ফুটবলকে সবার জন্য সহজলভ্য করার লক্ষ্য থেকে এই সিদ্ধান্ত অনেকটাই সরে গেছে।
এই মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে সমালোচনাও শুরু হয়েছে। মার্কিন কংগ্রেসের ৬৯ জন সদস্য চিঠি দিয়ে অভিযোগ করেছেন যে এই ডায়নামিক প্রাইসিং বিশ্বকাপকে সাধারণ দর্শকদের নাগালের বাইরে নিয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে, ফিফা জানিয়েছে তারা বৈধ ব্যবসায়িক নীতির মধ্যেই কাজ করছে। টিকিট পুনরায় বিক্রির ক্ষেত্রেও তারা ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়ের কাছ থেকে ১৫ শতাংশ কমিশন নিচ্ছে।
সব মিলিয়ে, বিশ্বকাপের উত্তেজনা যেমন বাড়ছে, তেমনই টিকিটের দাম নিয়ে বিতর্কও বাড়ছে। ভবিষ্যতে এই সমস্যার সমাধান কীভাবে করা হবে, তা এখন দেখার বিষয়। দর্শকদের আশা, তারা যেন সহজে এবং সাশ্রয়ী মূল্যে এই বড় আসরের অংশ হতে পারেন।
