পূর্ব বর্ধমান জেলার রায়নার পলাশন অঞ্চলের বাশা গ্রামের বাসিন্দা সৌমেন চট্টোপাধ্যায়। ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্ন বুনেছিলেন। ক্রিকেট ধনীদের খেলা, এমন ধারণা রয়েছে বহু মানুষের। কারণও আছে এমন ভাবনার। কিট, ট্রেনিং-এর খরচ-সহ বহু কিছুর ব্য়াপার থাকে। তবে সেসব ইচ্ছাশক্তির থেকে বড় হয়ে ওঠে না, সৌমেন বুঝিয়ে দিলেন।
সৌমেনের বাবা চাষবাস করেন, পুজোও করেন। মা গৃহবধূ। নুন আনতে পান্তা ফুরনো সংসার। আর্থিক সমস্যা তাঁর সামনে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। সৌমেন তাঁর স্বপ্ন পূরণের পথে। সৌমেন জায়গা করে নিয়েছেন আইপিএলের ফ্র্যাঞ্চাইজি রাজস্থান রয়্যালসে। বাশা গ্রামের সৌমেনকে নিয়ে এখন গোটা দেশে আলোচনা।
advertisement
টেনিস বল দিয়ে খেলা শুরু করেছিলেন। তার পর শাকনাড়া হাই স্কুল থেকে মাধ্যমিক পাশ করে পাড়ি দেন কলকাতায়। তার পর দিল্লি-মুম্বই। ধীরে ধীরে প্রফেশনাল ক্রিকেটে প্রবেশ। গত বছরেই রাজস্থান রয়্যালসের সিলেক্টর পঙ্কজ সিং-এর নজরে আসেন সৌমেন। বলের স্পিড একটু কম তাঁর, সেটা একটা সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়।
৫-৬ বছর দিল্লি ও মুম্বইয়ে পড়ে থেকেছেন সৌমেন। একটা সময় প্র্যাকটিসের পর ঠিকমতো খাবার পাননি। অর্থের অভাব ছিল, তবে ইচ্ছেশক্তিতে ঘাটতি ছিল না। কলকাতার সুপার ডিভিশন ক্লাব ডালহৌসি-র হয়ে খেলেছেন নিয়মিত। ভুবনেশ্বরে রাজস্থান রয়্যালসের স্পনসর সংস্থা একটি ট্রায়াল ক্যাম্পের আয়োজন করে।
আরও পড়ুন- ‘আমি ক্ষমা চেয়েছি…’, বিশ্বজয়ের পর দলের ভিতরের খবর ফাঁস করলেন সূর্যকুমার যাদব!
দেশজুড়ে হওয়া সেই বাছাই প্রক্রিয়া থেকে মাত্র ৩ জনকে নেট বোলার হিসেবে বেছে নেওয়া হয়। সেই তালিকায় নাম ছিল সৌমেনের। ১৬ মার্চ সৌমেন আনুষ্ঠানিকভাবে রাজস্থান রয়্যালসে যোগ দেবেন। শোয়েব আখতার এবং জসপ্রীত বুমরাহর ভক্ত সৌমেনের বলের গতি এখন ১৪০ প্রতি ঘণ্টা ছুঁইছুঁই। নেট বোলার হয়ে শুরু করে ভারতীয় দলের জার্সি গায়ে তোলা, এই স্বপ্নটাই দেখে ফেলেছেন সৌমেন। আর ছুটছেন সেই স্বপ্নকে সত্যি করার লক্ষ্যে।
