তিনি বলেন, ওই অনুষ্ঠানে মেসিকে সঠিকভাবে দেখভাল করা হয়নি। “যদি সৌরভ গাঙ্গুলি ক্রীড়ামন্ত্রী হিসেবে সেই ইভেন্ট পরিচালনা করতেন তা হলে তিনি নিশ্চয়ই মেসিকে ভালভাবে সুরক্ষা দিতেন,” বলেন পেজ।
তিনি আরও বলেন, যদি ক্রীড়া জগতের কেউ এই অনুষ্ঠানটি আয়োজন করতেন, তাহলে পরিস্থিতি আলাদা হতে পারত। লিয়েন্ডার নিজের পরিচয় নিয়েও কথা বলেছেন। তিনি দাবি করেন, যখন কেউ তাঁর বাঙালি পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তোলে, তখন তা তাঁকে কষ্ট দেয়।
advertisement
তিনি বলেছেন, “আমার নাম সৌরভ গাঙ্গুলি নয়, কিন্তু আমি বাঙালি এবং ভারতীয়। যখন কেউ আমার বাঙালি পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তোলে, তখন তা আমাকে আঘাত করে। আমি সম্পূর্ণভাবেই বাঙালি। হ্যাঁ, আমি সৌরভ গাঙ্গুলি নই। আমার বাবা পর্তুগিজ ছিলেন, কিন্তু তিনি এই দেশেরই মানুষ ছিলেন। আর আমিও এই দেশেরই মানুষ।”
লিয়েন্ডার পেজ সম্প্রতি ভারতীয় জনতা পার্টিতে (বিজেপি) যোগ দিয়েছেন, যা আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তিনি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু এবং কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার-সহ অন্যান্য শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতিতে দলে যোগ দেন। তার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা নিয়ে ইতিমধ্যেই জল্পনা শুরু হয়েছে।
কলকাতায় এক সাংবাদিক বৈঠকে পেজ বলেন, “আমি কলকাতায় জন্মেছি, এটাই আমার মাতৃভূমি। আমার টেনিস যাত্রা শুরু হয় সাউথ ক্লাব থেকে। আমি লা মার্টিনিয়ার স্কুলে পড়াশোনা করেছি। ময়দানে খেলাধুলা করেছি। এই শহরেই আমি আমার সব খেলার শিক্ষা পেয়েছি। কলকাতার সমৃদ্ধ ক্রীড়া ইতিহাসও রয়েছে।” লিয়েন্ডার পশ্চিমবঙ্গে ক্রীড়া পরিকাঠামোর ঘাটতির দিকেও আঙুল তুলেছেন।
তিনি বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে কোনো নির্দিষ্ট টেনিস স্টেডিয়াম নেই। এমনকী একটি ইনডোর টেনিস কোর্টও নেই। গরম ও বৃষ্টির কারণে বাচ্চারা ঠিকভাবে খেলতেই পারে না। ১৯০০ সালে নরম্যান প্রিচার্ড এখানে জন্মেছিলেন। ১০০ বছরেরও বেশি সময়ে কলকাতা থেকে মাত্র চারটি অলিম্পিক পদক এসেছে। পরিকাঠামোর কোনো উন্নতি হয়নি।”
আরও পড়ুন- কেকেআর কি ছিটকে যাবে আইপিএল থেকে? পর পর হার…
পেজ আরও বলেন, মোদি তাঁকে ক্রীড়া ও যুব উন্নয়ন নিয়ে “সাতটি ভিশন” দিয়েছেন। “তিনি বাংলার এক ছেলেকে দেশের সেবা করার সুযোগ দিয়েছেন। আমরা এই লক্ষ্য নিয়ে এগোব এবং দেশকে সুপারপাওয়ার বানানোর চেষ্টা করব। ২০৩৬ সালের মধ্যে দেশ নতুন কিছু অর্জন করবে। রাজনীতি আমার কাছে নতুন, কিন্তু আমি সৎভাবে কাজ করব। আমি কারও বিরুদ্ধে খারাপ কথা বলব না। আগামী ২০ বছরে আমরা ২৫০ মিলিয়ন শিশুর ভবিষ্যৎ গড়ে তুলব।”
