দেশের অন্যতম ব্যস্ত স্টেশন খড়গপুর। দক্ষিণ পূর্ব রেলের এই ডিভিশনে আধুনিকীকরণের কাজের সিদ্ধান্ত আগেই নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নানা জটিলতায় আটকে ছিল সেই কাজ। ২৫ বছর অন্তর আধুনিকীকরণের কাজ হওয়ার কথা থাকলেও কাজ হয়নি। কাজ শুরু হল ৩৩ বছর পর। অনেক টালবাহানার পর শেষমেষ এশিয়ায় প্রথম মাইক্রো প্রসেসর ইন্টারলকিং বা ইলেকট্রনিক ইন্টারলকিংয়ের কাজ শুরু হল শুক্রবার। চলবে ১৯ নভেম্বর পর্যন্ত। এই কাজে খরচ হচ্ছে ৪০ কোটি টাকা।
advertisement
আধুনিকীকরণে ইন্টারলকিং---
---বর্তমানে অটোমেটিক সিগনাল ব্যবস্থায় লাইন চেঞ্জের পয়েন্ট সেট করা থাকে
----প্যানেল ইন্টারলকিং সিস্টেম থেকে পুরোটা নিয়ন্ত্রণ করা হয়
---নতুন সিস্টেমে সলিড স্টেট ইন্টারলকিং বা সাধারণ কম্পিউটার থেকেই পুরোটা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে
--এর ফলে ট্রেন চলাচল দ্রুত হবে
---আগে প্রতিটি কেবিনে ক্লিয়ারেন্সের প্রয়োজন হত
--এখন কম্পিউটার থেকে এই ক্লিয়ারেন্স দেওয়া সম্ভব
---এর ফলে দুর্ঘটনার সম্ভাবনা অনেক কমবে
আধুনীকিকরণের জেরে খড়গপুর শাখায় একাধিক লোকাল ও এক্সপ্রেস ট্রেন বাতিল করা হয়েছে। ৩ নভেম্বর এই নিয়ে আগাম ঘোষণা করে রেল। পোস্টারও পড়ে। স্টেশনে স্টেশনে অ্যানাউন্সমেন্টও ছিল। তবু এড়াল গেল না যাত্রী দুর্ভোগ। এশিয়ার বৃহত্তম ইলেকট্রনিক ইন্টারলকিং সিস্টেমের কাজ শুরুর দিনই চরম হয়রানির শিকার হন যাত্রীরা। শুক্রবার খড়গপুর শাখায় বাতিল করা হয় মোট ২৩ মেল ও এক্সপ্রেস ট্রেন। বাতিল হয়েছে ২৭ লোকাল ট্রেন। আজও বাতিল ২২টি এক্সপ্রেস ট্রেন, ১৩টি প্যাসেঞ্জার, ৪টি স্পেশ্যাল ট্রেন, বাতিল ১৬টি মেমো ও ২৭টি লোকাল ট্রেন ৷
ভোগান্তি ঠেকাতে বিশেষ বাসের ব্যবস্থা করেছে সরকার। যদিও পর্যাপ্ত বাস না পাওয়ায় ক্ষোভ বেড়েছে মানুষের। যাত্রীদের। রবিবার ঘিরে এখন ঘোর চিন্তায় দক্ষিণ পূর্ব রেলের কর্তারা। সেদিনই সর্বাধিক ট্রেন বাতিল করা হবে।
