সেই অনুব্রত মণ্ডলকেই শুক্রবার বীরভূমের জেলা সভাপতি পদ থেকে সরিয়ে দিল তৃণমূল৷ একই সঙ্গে অন্যান্য আরও অনেক জেলার মতোই বীরভূমে জেলা সভাপতি পদটিও তুলে দেওয়া হল৷ ফলে অনুব্রত এখন বীরভূমের দলের কোর কমিটির একজন সাধারণ সদস্য হিসেবেই কাজ করবেন অনুব্রত৷ এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে বীরভূমে তৃণমূল অনুব্রতর ডানা ছাঁটল বলেই মনে করা হচ্ছে৷
advertisement
কিন্তু এত বছর পর হঠাৎ অনুব্রতর বিরুদ্ধে কেন পদক্ষেপ করল তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্ব? দলনেত্রীর অনুমোদন নিয়েই কেন ক্ষমতা কাড়া হল কেষ্টর?
তৃণমূলের অন্দরের ব্যাখ্যা, অনুব্রতর বিরুদ্ধে বছরের পর বছর তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে বহু অভিযোগ এসেছে৷ কিন্তু বীরভূমে তাঁর বিকল্প কেউ ছিল না বলেই সম্ভবত এতদিন কেষ্টর বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ করেনি দল৷ ২০২২ সালে গরু পাচার মামলায় অনুব্রতর গ্রেফতারির পরই জেলায় দলের সাংগঠনিক দায়িত্ব সামলাতে কোর কমিটি গঠন করে দেন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷
অনুব্রতর অনুপস্থিতিতে বীরভূমের দলের পারফরম্যান্স কেমন হবে, তা নিয়ে সংশয়ী ছিল তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্বও৷ কিন্তু দলের শীর্ষ নেতৃত্বের প্রত্যাশ্যাকে ছাপিয়ে গিয়েই ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত ভোট এবং ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনে বীরভূমে দায়িত্ব সামলে দেয় দলের কোর কমিটি৷ সবথেকে বড় কথা, অনুব্রতর আমলে বীরভূম মানেই অশান্তির আর এক নাম হয়ে দাঁড়িয়েছিল৷ বিরোধী শিবিরকে হুমকি, রাজনৈতিক সংঘর্ষে তৃণমূলের ভাবমূর্তিই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিল৷ ২০২৩-এর পঞ্চায়েত ভোটে কোর কমিটি দায়িত্বে থাকাকালীন সেই বীরভূমেই নির্বিঘ্নে ভোট সম্পন্ন হয়৷ বীরভূমে বিজেপি-র শক্তি যথেষ্ট থাকলেও পঞ্চায়েত তৃণমূলের ফলও ভাল হয়৷ আবার ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনেও জেলার দুটি আসন থেকেই তৃণমূলকে জিতিয়ে আনে এই কোর কমিটি৷ বিধানসভা ভিত্তিক ফল বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ২০২১-এর বিধানসভা ভোটের থেকেও লোকসভা নির্বাচনে ভাল ফল করেছে তৃণমূল৷
ফলে অনুব্রতকে ছাড়াও যে বীরভূমে ভাল ফল করা সম্ভব, দলের কোর কমিটির কাজে সেই ভরসা পায় তৃণমূল নেতৃত্ব৷ গতবছর অনুব্রত জেলমুক্তির পর জেলায় ফিরলেও সাংগঠনিক ক্ষেত্রে কোর কমিটিকেই গুরুত্ব দিচ্ছিল তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্ব৷ জেলার রাজনীতিতে ক্রমেই গুরুত্ব কমছিল কেষ্টর৷ ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে বীরভূমের সাংগঠনিক কাজকর্মের দায়িত্ব পুরোপুরি কোর কমিটির হাতেই তুলে দেওয়া হল৷ অনুব্রত আগেই কোর কমিটির সদস্য ছিলেন৷ আপাতত তাঁকে সেই পদেই রেখে দেওয়া হল৷ এই কোর কমিটিকে সাহায্য করবেন দলের জেলার দুই সাংসদ শতাব্দী রায় এবং অসিত মাল৷ তৃণমূলের জেলার নেতারা বলছেন, অনুব্রত কবে থেকে তৃণমূলের বীরভূম জেলার সভাপতি, তা মনে করে বলা কঠিন৷ সম্ভবত ২০০৬-০৭ সাল থেকে এই দায়িত্বে ছিলেন অনুব্রত৷
তৃণমূল সূত্রের খবর, দলীয় কোন্দল এড়িয়ে সবাইকে নিয়ে চলতে পারেন যে নেতারা, প্রতিটি জেলাতেই সেই নেতাদের সাংগঠনিক দায়িত্বে আনা হয়েছে৷ যে জেলাগুলিতে পঞ্চায়েত, লোকসভা নির্বাচনে কোর কমিটি ভাল কাজ করেছে, সেখানে তাদেরই দায়িত্বে রাখা হয়েছে৷ বীরভূমের মতোই এই তালিকায় রয়েছে কোচবিহার৷ আবার বিষ্ণুপুরের মতো আসনে লোকসভা নির্বাচনে অল্পের জন্য হারতে হয়েছে তৃণমূলকে৷ দলের জেলার নেতাদের একাংশের জন্যই এই ফল হয়েছিল বলে মত তৃণমূল নেতৃত্বের৷ সেই বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক জেলাতেও রদবদল করা হয়েছে৷
