পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, দুর্গাপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতাল ভর্তি থাকা এক রোগীকে দেখতে আসার জন্য অ্যাম্বুল্যান্সে করে পরিজনরা দমদম থেকে দুর্গাপুর যাচ্ছিলেন কয়েকজন দুর্গাপুর থেকে কলকাতায় রোগী নিয়ে গিয়েছিল। সেই রোগীকে কলকাতায় পৌঁছে দেওয়ার পর ফাঁকা অ্যাম্বুল্যান্সটি কলকাতায় ফিরছিল৷ তখনই দুর্গাপুরের একটি হাসপাতালে ভর্তি থাকা কলকাতার এক রোগীর পরিজন ওই অ্যাম্বুল্যান্সে ওঠেন৷ দুর্গাপুরের ওই হাসপাতালে ভর্তি থাকা রোগীকে দেখতে যাচ্ছিলেন তাঁরা৷ দুর্ঘটনার সময় অ্যাম্বুল্যান্সে চালক সহ মোট ছ জন ছিলেন। চালক, টেকনিশিয়ান ছাড়াও দুর্গাপুরের হাসপাতালে ভর্তি থাকা রোগীর পরিজন ছিলেন অ্যাম্বুল্যান্সে৷
advertisement
আরও পড়ুন: রাজাকে খুনের পরই ভোল বদলে ফেলে সোনম, চিনতেই পারেনি কেউ! ফাঁস করলেন দুই ড্রাইভার
পূর্ব বর্ধমানের জামালপুরের মুসুন্ডা এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি ট্রাকের পিছনে অ্যাম্বুল্যান্স ধাক্কা মারলে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় অ্যাম্বুল্যান্সের চালক, টেকনিশিয়ান ও রোগীর পরিবারের একজন সদস্যের। বাকি তিনজনকে গুরুতর আহত অবস্থায় বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। তাঁদের অবস্হা এখন স্থিতিশীল বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে। তাঁদের সব সময়ের জন্য অবজারভেশনে রাখা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতদের একজনের নাম বিশ্বজিৎ রায়চৌধুরী। তাঁর বাড়ি দুর্গাপুরে। আর এক মৃত ব্যক্তি বিধান রুইদাস। তাঁর বাড়ি বীরভূমে। তৃতীয় মৃত ব্যক্তি গৌতম দাসের বাড়ি দক্ষিণ দমদমে। বিশ্বজিৎ ও বিধান হলেন অ্যাম্বুল্যান্সের টেকনিশিয়ান এবং চালক৷ গৌতম দাস রোগীর আত্মীয়।
ওই সময়ে দুর্ঘটনাস্হলে উপস্থিত থাকা অন্যান্য গাড়ির চালকরা জানিয়েছেন, অত্যন্ত দ্রুত গতিতে ছুটছিল অ্যাম্বুল্যান্সটি। জামালপুরের মুসুন্ডার কাছে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ওই ট্রাকের পিছনে ধাক্কা মারে। চালকের চোখে ঘুম এসেছিল নাকি কোনও অতিরিক্ত গতির কারণেই চালক অ্যাম্বুল্যান্সের নিয়ন্ত্রণ হারান, সে বিষয়ে নিশ্চিত হতে তদন্ত শুরু করেছে জামালপুর থানার পুলিশ।
