এর ফলে বাঘেদের জন্য বাসস্থানের সংকট ধীরে ধীরে তৈরি হচ্ছে তাই বাঘেরা লোকালয়ের মধ্যে ঢুকে পড়ছে। এর ফলে বাঘে মানুষের সংঘাত বাড়ছে। শীতের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে গভীর জঙ্গলে থেকে বাঘ লোকালয়ের মধ্যে ঢুকে পড়ার ঘটনা ঘটে। বনদফতর এর পক্ষ থেকে লোকালয়ে বাঘের হানার হাত থেকে এলাকাবাসীদের রক্ষা করার জন্য নয়া পরিকল্পনা ফিশিং সেন্সর লাইট। এই লাইট জঙ্গল সংলগ্ন খাল খাঁড়ি পাশে যে সকল জায়গায় বনদফতরের জাল কিংবা নেট রয়েছে। সেই সকল জায়গায় উঁচু গাছের ডালে কিংবা জালে এই লাইট লাগানো হচ্ছে। কুলতলী বিট অফিসের পক্ষ থেকে, ২৬ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ৩০০ টি এই বিশেষ ফিসিং সেন্সার লাইট লাগানোর কাজ শুরু করা হয়েছে। বনদফতর এর পক্ষ থেকে নজর দেয়া হয়েছে কুলতলী যে সকল এলাকায় বাঘের পায়ের ছাপ এবং বাঘের গতিবিধি সবথেকে বেশি সে সকল জায়গায় এই বিশেষ আলো লাগান হয়েছে। ফিসিং সেন্সার লাইট কিভাবে কাজ করে, মূলত সন্ধ্যার সময় এই আলো জ্বলে ওঠে এই আলোর বিভিন্ন রকম রঙে জ্বলতে থাকে। এর কারণে বাঘের আর লোকালয়ের দিকে ঢোকার জন্য সাহস দেখায় না। পরীক্ষামূলকভাবে এই আলো লাগান হয়েছিল। এই আলো ফলশ্রুত হতেই কুলতলী এলাকায় এই আলো লাগানো হচ্ছে। গত বছর শীতের মৌসুমে ৩৮ বার জঙ্গল পেরিয়ে ডোরাকাটা ঢুকে পড়েছিল লোকালয়ে। কিন্তু এই বছরের সেই সংখ্যাটা অনেকটাই কমে গিয়েছে ইতিমধ্যেই দুবার জঙ্গল পেরিয়ে ডোরাকাটা ঢুকে পড়েছে লোকালয়ে। এ বিষয়ে কুলতলী এলাকার এলাকাবাসীর জিয়ারুল মন্ডল তিনি জানান, বনদফতর এর পক্ষ থেকে এটি ভাল উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এই লাইট লাগানোর পর জঙ্গল থেকে আর বাঘ লোকালয়ে ঢুকে পড়ে না। আমরা বাঘের আতঙ্ক থেকে অনেকটাই মুক্ত রয়েছি। এ বিষয়ে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার বন মুখ্য আধিকারিক (DFO) নিশা গোস্বামী বলেন, লোকালয়ে বাঘের হানা কমানোর জন্য বনদফতরের পক্ষ থেকে পরীক্ষামূলকভাবে এই ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। কুলতলী বিট অফিস সংলগ্ন জঙ্গল লাগলো লোকালয়ে ১০ ফুট করে নেট লাগানো হয়েছে এবং সেই জালের কাছে এবং বিভিন্ন গাছের ডালে এই লাইট লাগানো হয়েছে। লাইটের উজ্জ্বল জ্যোতির কারণে রাতের অন্ধকারে বাঘ জঙ্গল থেকে লোকালয়ে আসার প্রবণতা অনেকটাই কমে গিয়েছে। পরীক্ষামূলকভাবে এই লাইট সফল হলে আগামী দিনে সুন্দরবনের জঙ্গল লাগোয়া লোকালয় গুলিতে এই লাইট লাগানো হবে।
advertisement