স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, চন্দননগরের ২ নম্বর ওয়ার্ডের কাঁটাপুকুর এলাকায় ভাড়া বাড়িতে থাকেন মনোজ মুদি। তাঁর দুই ছেলেমেয়ে। মনোজ হুগলির ধনিয়াখালির একটি রেস্তোরাঁয় রান্নার কাজ করেন। তাঁর স্ত্রী সুমন সাউ এবং শ্বাশুড়ি পুতুল সাউ চন্দননগর মহকুমা শাসকের দফতরের সামনে কচুরির দোকান চালান।
সোমবার দুপুরে মা মেয়ে দুজনেই দোকানে ছিলেন। স্কুল ছুটি থাকায় সুমনের ছেলে দামোদর(১৩) তার বোন সোহানীকে(১০) নিয়ে বাড়িতেই ছিল। দুপুরে খাওয়ার পর মাসির সঙ্গে দু জনে শুয়ে পড়ে। ঘুম থেকে উঠে দামোদরকে ঘরে দেখতে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন মাসি সোনিয়া সাউ। তখনই পাশে থাকা একটি পরিত্যক্ত ঘরে দামোদরকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান তিনি।তড়িঘড়ি ওই কিশোরকে উদ্ধার করে চন্দননগর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসকরা পরীক্ষা করে তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। মৃতদেহের ময়না তদন্ত করতে হবে বলেও জানায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
advertisement
এই কথা শুনেই মৃতদেহ নিয়ে বাড়ি চলে যায় কিশোরের পরিবার। চন্দননগর হাসপাতাল থেকে খবর পেয়ে চন্দননগর থানার পুলিশ পৌঁছে যায় কাঁটাপুকুরে। চুঁচুড়া থানা থেকেও পুলিশের একটি দল সেখানে পৌঁছয়।মৃতদেহ নিয়ে চুঁচুড়া ইমামবাড়া হাসপাতালে যেতে বলে পুলিশ।সেখানেই আগামিকাল কিশোরের দেহের ময়নাতদন্ত হবে।
মৃত কিশোরের মা বাবা জানান, মাস চারেক আগে একবার দশ টাকার কয়েক গিলে নিয়েছিল ছেলে। তখন যমে মানুষে টানাটানি করে ওই কিশোরকে বাঁচানো হয়। গতকাল রাতে ঘুমোতে চাইছিল না ছেলে৷ তখন তিনি সেকথা স্বামীকে জানালে ছেলেকে বকাবকি করেন মনোজ৷ ছেলেকে বকাবকি করে ঘুমিয়ে পড়তে বলেন তিনি।
কিশোরের পরিবারের দাবি, আজ সকাল থেকে সব স্বাভাবিক ছিল। কিশোরের মা এবং দিদিমা দোকানে চলে যান। দুপুরের পর দুঃসংবাদ পান তাঁরা। মৃত কিশোরের মা আরও জানান,ছেলে ছোট থেকেই চঞ্চল ছিল।বকাবকি করলে ওই ভাঙা ঘরে গিয়ে লুকিয়ে পড়ত সে৷ ছোটবেলায় একবার অসুস্থও হয়ে পড়েছিল সে। মাঝেমধ্যেই দামোদর বলত, ‘আমি পালিয়ে যাব’।
