সিউড়ির বাসিন্দা সুমনের লড়াইটা সহজ ছিল না। বাবা পুলক মুখোপাধ্যায় ছিলেন কনস্টেবল এবং মা নিতা মুখোপাধ্যায় গৃহবধূ। পরিবারে আর্থিক স্বচ্ছলতা না থাকলেও সুমনের গানের প্রতি টান দেখে মা কষ্ট করে টাকা জমিয়ে তাঁকে একটি হারমোনিয়াম কিনে দিয়েছিলেন। সেখান থেকেই শুরু। সিউড়ির রামকৃষ্ণ বিদ্যাপীঠ থেকে স্কুল শেষ করে কলকাতার রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সংগীত বিভাগে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন তিনি। মেধাবী সুমন বিশ্ববিদ্যালয়ে সপ্তম স্থান অধিকার করে রাজ্যপালের কাছ থেকে পুরস্কারও লাভ করেন।
advertisement
বর্তমানে কলকাতায় থেকে সঙ্গীত ও শিক্ষকতা করলেও সুমনের মনে গেঁথে ছিলেন সোনু নিগম। সোনু নিগমের গাওয়া বিভিন্ন গান গেয়ে তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় আপলোড করতেন। ২০২২ সালে হঠাৎই সুমনের একটি গান সোনু নিগমের নজরে আসে। কিংবদন্তি এই গায়ক সুমনের গানের প্রশংসা করার পাশাপাশি প্রায় ৩০ বার তাঁর গান নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে শেয়ার করেন।কয়েকদিন আগে সোনু নিগমের কাছ থেকে সরাসরি মুম্বাই যাওয়ার আমন্ত্রণ পান সুমন। সেখানে গিয়ে প্রিয় শিল্পীর সান্নিধ্যে দীর্ঘক্ষণ সময় কাটান তিনি। সোনু নিগমের সামনেই তাঁর গাওয়া কালজয়ী গান ‘সন্দেশে আতে হ্যায়’ গেয়ে শোনান সুমন। সুমনের গায়কিতে মুগ্ধ হয়ে সোনু নিগম তাঁকে উজাড় করে আশীর্বাদ ও ভালবাসা দেন। এ প্রসঙ্গে সুমন বলেন “যাকে ছোটবেলা থেকে ভগবান মানি, সেই লিভিং লিজেন্ড সোনু নিগমজির পাশে বসে গান গাইতে পারা আমার কাছে স্বপ্নের। তিনি আমায় পরম স্নেহে ডেকে পাঠিয়েছেন, এর চেয়ে বড় প্রাপ্তি আর কিছু হতে পারে না। এই সাফল্য আমার বাবা-মা, শিক্ষক এবং শুভাকাঙ্ক্ষীদের আশীর্বাদের ফল।”