গুরাপের ব্যস্ততম জায়গা বেলতলা মোড়। একাধিক দূরপাল্লার বাস ছাড়াও ট্রেকার, অটো, টোটো যাতায়াত করে এই মোড় দিয়ে। সেই ব্যস্ততম মোড়ে নিয়ম করে সকাল বিকেল দাঁড়িয়ে বাঁশি বাজিয়ে ট্রাফিক সামলে যাচ্ছেন চন্দ্রনাথ। হুগলির জেলার গুড়বাড়ি দুই পঞ্চায়েতের রোহিয়া গ্রামের বাসিন্দা চন্দ্রনাথ ঘোষ। প্রতিবন্ধী স্কুলে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত পড়ার পড়ে ইতি টানতে হয়েছিল তাকে। তার বাবা বিশ্বনাথ ঘোষ যাত্রাদলে অভিনয় করে যা উপার্জন করত তা দিয়েই কোনক্রমে চলত তাদের সংসার। আর সম্বল বলতে তাদের দুই বিঘা জমি। কিন্তু ছেলের চিকিৎসার জন্য কখনও পিছুপা হয়নি তারা। চেন্নাই, ব্যাঙ্গালোর নিয়ে গিয়েও ছেলের মুখ দিয়ে আর কথা বলাতে পারেননি চন্দ্রনাথের বাবা মা। সময়ের কালে বিবাহের পর বর্তমানে দুই সন্তান, স্ত্রী ও বাবা মাকে দেখাশোনার দায়িত্ব তারেই কাঁধে। তার এক ছেলে সেও শারীরিকভাবে বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন।
advertisement
আরও পড়ুন: চিঠি লেখা ভোলা যাবে না! অভ্যাস বজায় রাখতে এবার পুলিশের অভিনব বন্দোবস্ত
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
চন্দ্রনাথের পিতা হার্ট ও লিভারের সমস্যায় ভুগছেন। শত প্রতিবন্ধকতাকে দূরে সরিয়ে রেখে গত দুবছর ধরে গুরাপের বেলতলা মোড় এলাকায় ট্রাফিক সামলে যাচ্ছেন চন্দ্রনাথ। রোদ, জল, ঝড়, বৃষ্টি যাই আসুক না তাকে কোন দিনও কর্তব্যে পিছুপা হতে দেখেননি স্থানীয়রা। বাড়ি থেকে প্রতিদিন প্রায় দু কিলোমিটার সাইকেল চালিয়ে হাজির হয় গুরাপ থানার বেলতলা এলাকায়। সেখানেই সকাল সন্ধ্যা ট্রাফিক সামলান চন্দ্রনাথ।
চোখে কালো চশমা, গায়ে ট্রাফিক পুলিশ লেখা পোশাক, মুখে বাঁশি নিয়ে ট্রাফিক সামলে চলেছে সে। আর তার এই কাজে খুশি স্থানীয় ব্যবসায়ী থেকে সাধারণ মানুষ। এলাকার সকলের কাছে খুব প্রিয় চন্দ্রনাথ। পুলিশ প্রশাসনও তাকে বিভিন্ন রকমভাবে যথাসাধ্য সাহায্যের চেষ্টা করে থাকে। বেলতলা এলাকার ব্যবসায়ী বাপি বৃন্দ, সঞ্জিত দে বলেন, “কথা বলতে পারে না, বাঁশি বাজিয়ে ট্রাফিকের সমস্ত দায়িত্ব সামলান। চন্দ্রনাথ যতদিন আছে ততদিন কোন দুর্ঘটনা ঘটেনি। সকলের সঙ্গে ভাল ব্যবহার করে এবং প্রতিদিন সময় মত ট্রাফিক সামলাতেও চলে আসে।”
চন্দ্রনাথের বাবা, মা জানান, “ছেলের এই কাজে হুগলি গ্রামীণ পুলিশ সুপার কামনাশিস সেন সাহায্য করেছেন। পুলিশ সুপারের কাছে আমরা কৃতজ্ঞ। তবে আমরা চাই ছেলের একটা স্থায়ী কিছু হোক। তার জন্য রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও পুলিশ প্রশাসনের কাছে আমার করজোড়ে নিবেদন তারা যেন ছেলের জন্য কিছু করেন।”
হুগলি গ্রামীণ পুলিশ সুপার কামনাশিস সেন বলেন, “চন্দ্রনাথ ঘোষ খুব ভাল কাজ করে, আমার কাছে এসেছিল। অনেকদিন ধরেই ওখানে ট্রাফিক সামলায়। আমার সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়েছে। আমাদের থেকে যতটা সাহায্য পাওয়ার আমরা তাকে করব। তবে আমরা যতটা পারব চেষ্টা করব তার জন্য কিছু করার।”
রাহী হালদার





