ঘড়ির কাঁটা দুপুর তিনটে ছুঁতেই চিঁড়ে, পাঁচ রকম মিষ্টি, ফল, কাঁঠাল আম আনারস দিয়ে ভোগ নিবেদনের পরে বিশেষ পুজো। রথ উপলক্ষে দেবীকে জিলিপির ভোগও নিবেদন করা হয়। রথ বের করার আগে বেনারসি কাপড় পরানো হয়।
প্রাচীন প্রথা মেনে মা তারাকে অপরাজিতা, জবা, রজনীগন্ধা ফুলের বড় বড় মালা দিয়ে সাজান হয়। তারপরে মন্দিরের গর্ভগৃহ থেকে মাকে বের করে মন্দিরের মূল প্রবেশ দ্বারের নীচে দাঁড়িয়ে থাকা সুসজ্জিত রথে চাপান হয়। শুরু হয় যাত্রা।
advertisement
প্রথমে রীতি মেনে মা তারাকে মূল প্রবেশ দ্বার থেকে উত্তরমুখে নিয়ে যাওয়া হয়। উত্তর মুখে রথে চেপে দ্বারকা সেতু সংলগ্ন রামপুরহাট-সাঁইথিয়া রাস্তা ধরে রথ তারাপীঠের তিন মাথা মোড় হয়ে এগিয়ে যায়। এবং মা তারাকে রথে চাপিয়ে আবারও মন্দিরের মূল প্রবেশ দ্বারেই নিয়ে আসা হয়। সোজা এবং উল্টো রথ-দু’দিনই মা তারা অধিষ্ঠিত হন। বছরের এই দুটো দিনে মা তারা মন্দিরের বাইরে পরিক্রমা করেন। আর এর পাশাপাশি দুর্গাপুজোর পরে চতুর্দশীর দিন মা তারাকে বাইরে এনে বিশ্রাম মঞ্চে রাখা হয়।
তারাপীঠের ইতিহাস ঘাঁটলে জানা যায় আনুমানিক ১৭৮০ সালে নাটোরের রানী ভবানীর দত্তক পুত্র রাজা রামকৃষ্ণ প্রথম তারাপীঠে রথের প্রচলন করেছিলেন। পরবর্তীকালে কলকাতার আশালতা সাধুখাঁ নামে এক ভক্ত রথ-ঘর নির্মাণ করেন। সেই সময় কাঠের তৈরি একটি রথে মা তারাকে বসিয়ে গোটা চণ্ডীপুর, বর্তমানের তারাপীঠে প্রদক্ষিণ করানো হত। সেই সময় রথের রশিতে টান দেওয়ার জন্য স্থানীয় বাসিন্দারা ভিড় করতেন।
আরও পড়ুন : রথযাত্রায় বাড়িতেই জগন্নাথদেবের পুজো করছেন? কোথায় কীভাবে রাখবেন তাঁর মূর্তি? জানুন পুজোর রীতি
হরিনাম সংকীর্তনের পাশাপাশি বিভিন্ন রকমের বাজনা ও জয় তারা ধ্বনি দিয়ে তারাপীঠ ভ্রমণ করানো হত। তবে ধীরে ধীরে সময় যত গড়িয়েছে তারা মায়ের রথের মাহাত্ম্য ততই বেড়েছে। সব মিলিয়ে এই দিন রথযাত্রা উপলক্ষে সাজো সাজো রব বীরভূমের তারাপীঠে। সামাল দিতে অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে বীরভূম জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে।