সিরাজ-উদ-দৌল্লার হারানো রাজধানীর মাঝখানে একটি অসম্পূর্ণ নির্মাণ যা এখনও ইতিহাস ও ঐতিহ্য নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে, তা হল এই ফুটো মসজিদ। ইটের তৈরি ভবনটি এখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে, ঝোপঝাড় জঙ্গলে পরিপূর্ণ। ১৭৪০ খ্রিস্টাব্দে নবাব সরফরাজ খান পাঁচ হাজার শ্রমিক নিয়ে এই মসজিদের নির্মাণকাজ শুরু করেন। তাঁরা সময়মতো কাঠামোটি সম্পন্ন করার জন্য দিনরাত কাজ করছিলেন। কামারপুর, যেখানে এই মসজিদটি অবস্থিত, তা কিলা নিজামতের প্রায় আড়াই কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত। যদি এটি সম্পন্ন হত, তাহলে মসজিদটি ১৩৫ ফুট লম্বা এবং ৩৮ ফুট প্রস্থ হত। যা মুর্শিদাবাদের সবচেয়ে বড় কাঠামো হত। এটি পাঁচটি গম্বুজ দ্বারা স্থাপন করা হয়েছিল – চারটি কোণে এবং একটি মাঝখানে। চারটি বুরুজে বিশেষভাবে ডিজাইন করা সর্পিল সিঁড়ি তৈরির পরিকল্পনা ছিল যা এর ভিত্তি থেকে সহজেই পাওয়া যেত। সমস্ত দেওয়াল এবং সিঁড়ি তৈরি করা হয়েছিল, কিন্তু তিনটি গম্বুজের ছাদ অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে। কথিত, ধারাবাহিকভাবে অশরীরী দেখার কারণে, শ্রমিকরা কাজ শেষ করতে অস্বীকার করেন। ফলে অসম্পূর্ণ থাকে এই মসজিদটি। যার কারণে নাম হয় ‘ফুটো মসজিদ’।
advertisement
আরও পড়ুন : পালাবে খারাপ কোলেস্টেরল! গলবে প্লেকের আস্তরণ! আপনাকে ছুঁতেও পারবে না হার্ট অ্যাটাক! ৭ সহজ ঘরোয়া টোটকা
বর্তমানে ফুটো মসজিদের বেহাল দশা নজরে আসে মুর্শিদাবাদ পুরসভার পুরপ্রধান ইন্দ্রজিত ধরের কাছে। তিনি উদ্যোগ গ্রহণ করেন সংস্কারের। ঐতিহাসিক স্থাপত্য রক্ষার জন্য জঞ্জাল, গাছপালা পরিষ্কার করানো হয়। পুরচেয়ারম্যান জানিয়েছেন, ASI যদি এই মসজিদের সংস্কার না করে, মুর্শিদাবাদ পুরসভা তার দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। অতীত ঐতিহ্য রক্ষা করার জন্য তিনি অঙ্গীকারবদ্ধ হন। আশা, ফুটো মসজিদ রক্ষণাবেক্ষণ হলে এলাকায় তৈরি হবে নতুন পর্যটনকেন্দ্র। ইতিমধ্যেই বাংলা বিহার ওড়িশা গেটের মধ্যে বাংলা গেটের সংস্কারের কাজ সম্পন্ন। অন্যদিকে ঘণ্টাঘর সংস্কার ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। আশায় বুক বাঁধছেন এলাকার বাসিন্দারাও। কারণ তাঁদের আশা, নতুন করে পর্যটন কেন্দ্র গড়ে উঠলে এলাকায় আর্থ সামাজিক উন্নয়ন ঘটবে।