পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে প্রায় ১৪ বছর আগে সেনাবাহিনীতে যোগদান করেছিলেন পরিবারের কনিষ্ঠ সন্তান ঝন্টু। চাষি পরিবারের ছেলে ঝন্টু। তাঁর স্ত্রী এবং এক কন্যা ও এক পুত্র আগ্রায় থাকেন। বড়দাদা রফিকুল শেখ ভারতীয় সেনায় কর্মরত, মেজদাদা বিশারদ শেখ সৌদি আরবে কর্মরত। বড়ছেলে রফিকুলের মাধ্যমে ছোটছেলের মৃত্যুর খবর পান বাবা সুবর আলি, মা আখিরণ বিবি। তারপর থেকেই শোকে পাথর হয়ে গিয়েছেন তাঁরা।
advertisement
প্রায় দু’বছর আগে কাশ্মীরে পোস্টিং হয় ঝন্টুর। ছিলেন প্যারা কমান্ডোতে। উধমপুরে জঙ্গিদের সঙ্গে গুলির লড়াই শুরু হতেই সেখানে যান তিনি। সেখানেই গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যু হয় তাঁর।মুখ্যমন্ত্রী এ’খবর জানার পর নিজে ঝন্টুর এক দাদা নাজিম শেখকে ফোন করে পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন। তেহট্টের বিধায়ক তাপস সাহা পরিবারের সঙ্গে দেখা করে পাশে থাকার আশ্বাস দেন।
পরিবারের দাবি, মাস খানেক আগেই বাড়ি এসেছিলেন ঝন্টু। ইচ্ছা ছিল অবসরের পর বাড়ি ফিরে সপরিবারে থাকবেন। বাড়ি তৈরির কাজ শুরু করেছিলেন। কিন্তু শেষ হয়নি। দোতলা বাড়ি তৈরি হলেও এখনো পলেস্তারা ও রং-এর কাজ বাকি। কথা ছিল ছুটিতে বাড়ি এসে সেই কাজ সম্পন্ন করবেন। অবসরের পর পাটের ব্যবসা করার পরিকল্পনা ছিল, সেই ভেবেই বাড়ির নীচে তৈরি করেছিলেন গুদাম। কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণ হল না। তার আগেই জঙ্গিদের গুলিতে প্রাণ হারালেন বছর ৩৭-এর সেনা জওয়ান ঝন্টু। এখন তাঁর কফিনবন্দি দেহ তেহট্টে ফেরার অপেক্ষায় পরিবার ও এলাকাবাসী।
হোয়াইট নাইট কর্পসের ৬ প্যারা এসএফ-এ ছিলেন ঝন্টু আলি শেখ। সেনাবাহিনীর তরফে জানানো হয়েছে, ” আমাদের এক সাহসী যোদ্ধা জঙ্গিদের সঙ্গে গুলির লড়াইয়ে প্রাণ হারান। চিকিৎসা সত্ত্বেও তাঁকে বাঁচানো যায়নি। তাঁর অদম্য সাহস কখনও ভোলার নয়। ঝন্টু আলি শেখের মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত, তাঁর পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করছি।”
সমীর রুদ্র, নদিয়া
