শনিবার চুঁচুড়ায় তৃণমূলের কর্মিসভা ছিল৷ সেই বৈঠকেই হুগলির সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে চুঁচুড়ার বিধায়ক অসিত মজুমদারের দ্বন্দ্বের বিষয়টি আলোচনায় উঠে আসে৷ শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে হুগলি জেলার কয়েকটি বিধানসভা কেন্দ্র দেখার দায়িত্ব দিয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়৷ এ দিনের কর্মিসভায় তাই রচনা-অসিতের দ্বন্দ্ব মেটাতে দীর্ঘ সময় ব্যয় করেন কল্যাণ৷ নরমে গরমে দু জনকেই শ্রীরামপুরের সাংসদ বুঝিয়ে দেন, বিধানসভা ভোটের আগে সাংসদ-বিধায়কের এই দ্বন্দ্ব শাসক দলের কাছে অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে৷ ভোটের আগে দু জনের দ্বন্দ্ব অবিলম্বে মেটানোর নির্দেশও দেন কল্যাণ৷ মজা করে শ্রীরামপুরের সাংসদ বলেন, ভোট মিটলে রচনা এবং অসিতের হাতে তিনি নিজেই লাঠি তুলে দেবেন৷
advertisement
চুঁচুড়ার বিধায়ককে ধমকের সুরে কল্যাণ বলেন, ‘অসিতের কান পাতলা।কেউ কিছু বললে সেটা শুনে অন্যের সঙ্গে ঝগড়া করেন। রচনা ভাল মেয়ে। তাঁর সঙ্গে কোনও সমস্যা থাকার কথা নয়৷ তবে অসিত বিধায়ক হিসেবে দারুন কাজ করেন। কিন্তু ওঁর মুখ খুব খারাপ। রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাওয়ার কিছু নেই। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আহ্বানে তিনি দলে এসেছেন।সাংসদ হয়েছেন। তাঁর একটা সম্মান আছে। সেটা রাখতে হবে। বিধানসভা নির্বাচনের আর ছ মাস বাকি। এই সময় কোন দ্বন্দ্ব রাখা যাবে না। যা কিছু মনোমালিন্য আছে, সেটা মিটিয়ে ফেলতে হবে।’ অসিত রচনার দ্বন্দ্ব যে আজ থেকে মিটল, সেটা বোঝাতে দু জনের হাত ধরিয়ে দেন শ্রীরামপুর সাংসদ।
বৈঠক শেষে রচনা বলেন, ‘কল্যাণদা আমাদের অভিভাবক। উনি যেমনটা বলেছেন সেটাই হবে। কিন্তু দলের যাঁরা কর্মী তাঁদের সম্মান দিতে হবে আগে। দলের কর্মসূচি হলে সেই কর্মসূচিতে তাঁদের ডাকতে হবে।অসিতদার সঙ্গে আমার কোনও ঝামেলা নেই। উনি আমার থেকে রাজনীতিতে অনেক বেশি অভিজ্ঞ। একসঙ্গে কাজ করব।’
অসিত মজুমদারও বলেন, ‘যা সমস্যা কিছু ছিল সব মিটে গিয়েছে। রচনা আমার নিজের বোনের মত। ওঁর ছবি নিয়ে আমার নাতনি বাড়িতে খেলা করে। কাল থেকে দেখবেন চুঁচুড়ায় অন্য ছবি।’
