ডা. শশাঙ্কবাবুর চেম্বারে ঢুকলেই বোঝা যায়, এখানে চিকিৎসা মানে শুধু ওষুধ নয়। রোগীদের আগে তিনি দেন মানসিক সান্ত্বনা, ধৈর্য ধরে শোনেন সমস্যার কথা। অনেক সময় ওষুধের চেয়েও এই কথাগুলিই রোগীর মনে সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলে। তাঁর কাছে চিকিৎসার ফি বলতে গেলে নেই বললেই চলে। ওষুধসহ তিনি নেন মাত্র ১০ বা ২০ টাকা। আবার অনেক গরিব, অসহায় মানুষের কাছ থেকে নেন না এক টাকাও। বর্তমান সময়ে যেখানে চিকিৎসকদের ফি কমপক্ষে ৫০০ থেকে ১০০০ টাকা, সেখানে মাত্র ১০ টাকায় রোগী দেখা কি আদৌ সম্ভব—এই প্রশ্নই ঘোরে এলাকার মানুষের মুখে মুখে। অথচ এই অসম্ভবকেই সম্ভব করে চলেছেন শশাঙ্কবাবু বহু বছর ধরে। জানা যায়, প্রথমদিকে তিনি মাত্র ২–৫ টাকায় চিকিৎসা করতেন। রোগীদের অনুরোধেই ফি বেড়ে ১০ টাকায় দাঁড়ালেও তাঁর আপত্তি ছিল। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, “চিকিৎসা আমার কাছে ব্যবসা নয়, এটি একটি ব্রত।”
advertisement
একসময় ডা. শশাঙ্ক শেখর রানা ছিলেন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। শিক্ষকতার সুবাদে ছাত্রছাত্রীদের পরিবারগুলির আর্থিক কষ্ট খুব কাছ থেকে দেখেছেন। সেই অভিজ্ঞতাই তাঁকে মানুষের পাশে দাঁড়াতে অনুপ্রাণিত করেছে। পরবর্তীতে খড়গপুর হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজে পড়াশোনা করে চিকিৎসা পেশায় যুক্ত হন। সরকারি চাকরির পর একসময় ‘সম্মিলিত সংঘ’ নামে একটি ক্লাবে চিকিৎসা করতেন, বর্তমানে নিজের বাড়িতেই রোগীদের সেবা দেন। প্রতিদিন গড়ে ৪০–৫০ জন রোগী বিনামূল্যে বা নামমাত্র ফি-তে চিকিৎসা পান তাঁর কাছে। কেন এই কর্পোরেট যুগেও মাত্র ১০ টাকায় চিকিৎসা—এই প্রশ্নের উত্তরে শশাঙ্কবাবু বলেন, “আমার রোজগারের আর প্রয়োজন নেই। যা চেয়েছিলাম, তা পেয়েছি। এখন চাই মানুষের কষ্ট লাঘব করতে।” চিকিৎসা যেখানে অনেকের কাছে পেশা, সেখানে ডা. শশাঙ্কশেখর রানার কাছে তা একটি নৈতিক দায়বদ্ধতা। তাই তো দশগ্রামের মানুষের কাছে তিনি আজও ভগবানের সমান—নিঃশব্দে, হাসিমুখে মানুষের সেবা করে চলেছেন এক প্রকৃত মানবিক চিকিৎসক।