আয়োজকরা জানিয়েছেন, পাউশী অন্ত্যোদয় অনাথ আশ্রম এবং গাংটের ষষ্ঠীধর বৈদ্য জনকল্যাণ সমিতির যৌথ উদ্যোগে বছর দশেক ধরে গাংটে গ্রামে একটি আশ্রম চালানো হচ্ছে। মূলত ওই এলাকার আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা পরিবারের শিশুদের পড়াশোনা শেখানো এবং তাঁদের পাশে দাঁড়ানোর উদ্দেশ্যে ওই আশ্রম চালানো হয়। প্রায় ২০০ জন শিশুকে নিয়ে নিয়মিত স্কুল হয় সেখানে। ওই আশ্রমের সদস্যরা জানান, পুজোর আনন্দ উপভোগের জন্য স্কুলের শিশুরা কোমা, পুরন্দরপুর কিংবা সিউড়ি যেত।
advertisement
তারা দীর্ঘ দিন ধরে চাইত গ্রামে একটা পুজো হোক। যাতে নিজের গ্রামের পুজোর আনন্দ তারা উপভোগ করতে পারে। সেই জন্যই ওই দুই সংস্থার উদ্যোগে এ বছর প্রথম দুর্গাপুজোর আয়োজন করা হয়েছে। আশ্রম চত্বরেই ওই পুজো হবে। ইতিমধ্যে সেখানে প্রতিমা নির্মাণের কাজ চলছে। আয়োজকরা জানান, এই এলাকায় অনেক গরিব দুঃস্থ মানুষের বসবাস। লকডাউনের কারণে তাঁরা সকলে বিপাকে পড়েছিলেন। তাই প্রায় দেড় বছর ধরে ওই এলাকার প্রায় ৭০ জন মানুষকে আশ্রমে খাওয়ানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। তাঁরাও পুজোতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করবেন। গাংটের ষষ্ঠীধর বৈদ্য জনকল্যাণ সমিতির সম্পাদক মনা বৈদ্য বলেন," এই এলাকার সমস্ত খুদেদের এবং যাঁরা গত একবছর ধরে আশ্রমের কমিউনিটি কিচেনে খাওয়া দাওয়া করছেন, তাঁদের পুজোর চারদিন খাওয়ানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ ছাড়া নবমীর দিন সমস্ত গ্রামবাসীকে আমন্ত্রণ করা হয়েছে৷ সে দিন গ্রামের সকলকে আশ্রমে খাওয়ানো হবে।"
আরও পড়ুন : ৩৫০ বছরের রীতি মেনে দুর্গাপুজো হয় হাওড়ার শিবপুরের পাল বাড়িতে, জেনে নিন সেই ইতিহাস...
অন্যদিকে পাউশী অন্ত্যোদয় অনাথ আশ্রমের সম্পাদক বলরাম করণ বলেন, " মূলত সকল গ্রামবাসীকে আনন্দ দেওয়া এবং খুদেদের মুখে হাসি ফোটানোর উদ্দেশে আমাদের এই আয়োজন।" তাঁর সংযোজন, " দেবেন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়, সুমিত চক্রবর্তী এবং দীপঙ্কর রায় এই তিনজন গত দেড় বছর ধরে ওই কমিউনিটি কিচেন চালাতে আমাদের সহযোগিতা করেছেন। আমাদের আশা আরও মানুষ আমাদের দিকে হাত বাড়াবেন।"
আরও পড়ুন : পুজো শুরু বালিজুড়ির মুখোপাধ্যায় বাড়িতে, রোমহর্ষক ১১১১ বঙ্গাব্দে শুরু পুজোর ইতিহাস
পাশাপাশি, এ বারই প্রথম সর্বজনীন দু্র্গাপুজোর দায়িত্ব নিজেদের কাঁধে তুলে নিল রাজনগরের সাজিনা গ্রামের শ্রীদুর্গা ক্লাব। গ্রামটিতে শ’খানেক পরিবারের বাস। গ্রামে একটি পারিবারিক দুর্গাপুজো আছে ঠিকই, কিন্তু সেখানে পুজোর চারদিন সর্বজনীনভাবে আনন্দ করায় খামতি থেকে যাচ্ছিল বলে আক্ষেপ ছিল। রাজনগরের চন্দ্রপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার ওই গ্রামে ক্লাব সেই আক্ষেপ মেটানোর দায়িত্ব নিয়েছেন। ক্লাব সদস্যরা বলছেন, সবার কাছ থেকে সামর্থ অনুযায়ী চাঁদা নিয়েই পুজোর আয়োজন। ঝাড়খণ্ডের আমজোড়া থেকে প্রতিমাশিল্পী প্রতিমা গড়ছেন। স্থানীয় প্রাথমিক স্কুলের মাঠে মণ্ডপের কাজও চলছে ৷
