রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা আদিবাসী লোকশিল্পীরা তাঁদের নিজস্ব সংস্কৃতি ও নৃত্য পরিবেশন করেন।  পুরুলিয়ার কাশীপুর এলাকার আদিবাসী নৃত্য, মালদার গম্ভীরা-সহ নানা লোকসংস্কৃতির অনুষ্ঠান দর্শকদের মুগ্ধ করে। এই বছর শময়িতা মঠের পরিচালনায় বাঁকুড়ায় অনুষ্ঠিত হল খেরওয়াল তুকৌ। মেলার আকর্ষণ শুধু সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেই সীমাবদ্ধ নয়। আদিবাসী শিল্পকলা ও হস্তশিল্পের স্টল, লোকজ সামগ্রীর পাশাপাশি সকলের জন্য মধ্যাহ্ন প্রসাদের ব্যবস্থাও থাকে এই মিলনমেলায়।

advertisement

আরও পড়ুন: ৮.৩ পারদ, কনকনে ঠান্ডায় লালবাঁধের জলে টানা ২০২৬ বার ডুব! বর্ষবরণে তাক লাগালেন সদানন্দ, লক্ষ্য গিনেস

শুশুনিয়া পাহাড়ের পাদদেশে, শিউলিবোনা গ্রামের উপকণ্ঠে অনুষ্ঠিত এই উৎসবে আনুমানিক ৩০ হাজার মানুষের সমাগম হয় বলে জানিয়েছেন শময়িতা মঠের সম্পাদিকা ঋষি ঋদ্ধা অনাহতা। এই উৎসবের আন্তর্জাতিক আকর্ষণও কম নয়। ডেনমার্কের বাসিন্দা এইলিন এই নিয়ে প্রায় পাঁচবার বাঁকুড়ায় এসেছেন শুধুমাত্র খেরওয়াল তুকৌয়ে অংশ নিতে। তাঁর কথায়, “এখানে কোনও কৃত্রিমতা নেই। মানুষ সত্যিই মানুষকে আপন করে নেয়। এই অনুভূতিটা ইউরোপের বড় শহরে খুব কমই পাওয়া যায়।”

advertisement

View More

আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন

আদিবাসী সংস্কৃতির এই সহজ-সরল আন্তরিকতাই বারবার টেনে আনে বিদেশের মানুষদের। যখন জেলার মানুষ নতুন ইংরেজি বছর নিয়ে নানা আনন্দ-উৎসবে মাতোয়ারা, ঠিক তখনই শুশুনিয়া পাহাড়ের কোলে পড়ন্ত বিকেলে এই মেলার আলাদা স্বাদ অনুভব করেন উপস্থিত মানুষজন। ঢাকের তালে তালে নাচ, লোকসংস্কৃতির রং আর মানুষের সঙ্গে মানুষের নির্ভেজাল মিলন। সব মিলিয়ে খেরওয়াল তুকৌ হয়ে ওঠে এক মানবিক উৎসব। গ্রামের আদিবাসী মানুষজন সারা বছর ধরে অপেক্ষা করে থাকেন এই দিনের জন্য। উৎসব শেষ হলেও শুরু হয়ে যায় আবারও এক বছরের অপেক্ষা। অপেক্ষা পরবর্তী খেরওয়াল তুকৌর।

advertisement