চন্দননগর নাড়ুয়া রায় পাড়ায় বাড়ি সুতন্দ্রা চট্টোপাধ্যায়ের।গতকাল রাত দশটায় বাড়ি থেকে বার হন গয়া যাওয়ার উদ্দেশ্যে। সঙ্গী ছিল আরও চার জন। দুর্গাপুরের বুদবুদ-এর একটি পেট্রল পাম্প থেকে তেল ভরে ১৯ নম্বর জাতীয় সড়কে ওঠা মাত্রই সুতন্দ্রার গাড়ি ধাওয়া করে সাদা রঙের মদ্যপ ইভটিজারদের গাড়ি। সুতন্দ্রার সঙ্গে থাকা সহকর্মী ও গাড়ির চালকের অভিযোগ, অশ্লীল ইঙ্গিত শুরু করে ইভাটিজাররা। কটুক্তি করতে থাকে। এরপর গাড়ি নিয়ে ধাওয়া করে। গভীর রাতের এই ঘটনায় রীতিমতো ভয় পেয়ে গিয়ে সুতন্দ্রার গাড়ির চালক গাড়িটিকে কাঁকসার পানাগরের দিকে নিয়ে চলে যান। নিস্তার মেলেনি এরপরও। ধাওয়া করতে করতে দুরন্ত গতিতে ছুটে আসা সাদা রঙের ইভাটিজারদের গাড়ি সজোরে ধাক্কা মারে সুতন্দ্রার গাড়িকে। উল্টে যায় গাড়িটি, ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় সুতন্দ্রার। গাড়িতে থাকা বাকি দু’জনকে আহত অবস্থায় বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, অল্প বিস্তর আঘাত পেয়েছেন তাঁরা। কাঁকসা থানার পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
advertisement
সুতন্দ্রার প্রতিবেশীরা মেনে নিতে পারছেন না এই ঘটনা। তারা চাইছেন দুষ্কৃতীদের শাস্তি। সুতন্দ্রার বাবা সুকান্ত চট্টোপাধ্যাণ ছিলেন রেলের ঠিকাদার। নয় মাস আগে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয় তাঁর। নাড়ুয়ার বাড়িতে আছেন সুতন্দ্রার বৃদ্ধ দিদিমা, ঠাকুমা আর মা। মা তনুশ্রী খবর পেয়ে ভোরেই দূর্গাপুরের উদ্দেশে বেরিয়ে গিয়েছেন। খবর পেয়ে তাঁদের বাড়িতে পৌঁছান চন্দননগর পুরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মোহিত নন্দী। তিনি বলেন, ” সুতন্দ্রার বাবা সুকান্ত আমার সহপাঠী ছিল। তাঁর মৃত্যুর বছর ঘোরেনি। এর মধ্যেই তাঁর মেয়ের মৃত্যুর খবর মেনে নিতে পারছি না। যা শুনছি সেটা যদি সত্যি হয়, তাহলে এই ধরনের দুষ্কৃতীদের ক্ষমা করা উচিত নয়। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া উচিত।”
নাড়ুয়া এলাকায় এই খবর ছড়াতেই লোকজন ভিড় করতে থাকে সুতন্দ্রাদের বাড়ির সামনে।প্রতিবেশীরা বলেন, ”ওকে আমরা মাম বলে ডাকতাম। রাস্তার কুকুরদের ডেকে ডেকে খাওয়াতো। খুব ভাল ব্যবহার করতো আমাদের সঙ্গে। খুব ছোটবেলা থেকেই নাচ শিখত। নাড়ুয়া মেন রোডে ওদের বাড়ি ছিল আগে। অনেক দিন আগে রায় পাড়ায় চলে আসে। খুব ভাল নাচত। বন্ধুদের নিয়ে একটা নাচের গ্রুপ তৈরি করেছিল। সেই গ্রুপ নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় অনুষ্ঠানে যেত।”
রাহী হালদার





