২০২৬ সালের দ্বিতীয় দিন থেকে ভোটের প্রচারে নেমে অভিষেক শুরুতেই বুঝিয়ে দিলেন, এবার বিধানসভা নির্বাচনে দক্ষিণ চব্বিশ পরগণা জেলায় শাসক দলের পাখির চোখ ভাঙড়৷ দলের নতুন কর্মসূচি ‘যতই করো হামলা আবার জিতবে বাংলা’ কর্মসূচিরর শুরুটা এ দিন দক্ষিণ চব্বিশ পরগণার ভাঙড় থেকে শুরু করেন অভিষেক৷ সেই সভা থেকেই অভিষেক বলেন, ‘আমি বাংলার মানুষকে কথা দিয়েছি তৃণমূলের আসন সংখ্যা এবং ভোট শতাংশ ২০২১-এর তুলনায় ছাব্বিশে বাড়বে৷ ২০২১-এ জিতেছিলাম ২১৪, এবার একটা হলেও বেশি জিততে হবে৷ সেই একটা আসন যেন দক্ষিণ চব্বিশ পরগণা থেকে হবে৷ এবার ভাঙড়ও আমাদের জিততে হবে৷ এই জেলায় ৩১-এ ৩১ করতে হবে৷’
advertisement
কেন তিনি দলের নতুন কর্মসূচির শুরুটা দক্ষিণ চব্বিশ পরগণা জেলা থেকে করলেন, এ দিন তারও জবাব দিয়েছেন অভিষেক৷ ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ বলেন, ‘কালীঘাটে আমার জন্ম হতে পারে মৃত্যু যেন এই জেলার মাটিতে হয়৷ কালীঘাট জন্মভূমি হলে দক্ষিণ চব্বিশ পরগণা আমার কর্মভূমি৷ আপনাদের আশীর্বাদ নিয়ে আজ থেকে লড়াই শুরু করলাম৷ বাকি বাংলা আমি বুঝে নেবো৷ দক্ষিণ চব্বিশ পরগণায় আপনারা লড়বেন তো? সিপিএমের যখন রমরমা বাজার ২০০৮ সালে পরিবর্তনের চাকা এই জেলা ঘুরিয়েছিল৷ তাই আজ প্রথম সভা দক্ষিণ চব্বিশ পরগণার বারুইপুরে৷’
বিজেপি-কে আক্রমণ করে অভিষেক বলেন, ‘একটা বুথেও গণতান্ত্রিক ভাবে বিজেপি-কে মাথা তুলতে দেওয়া যাবে না৷ কেন বিজেপি-কে আমরা জমিদার বলেছিলাম, বাংলার মানুষ বুঝতে পারছে৷ বাংলাকে ভাতে মেরে ক্ষান্ত হয়নি, এখন মানুষের মৌলিক অধিকার কেড়ে নিতে এসআইআর নিয়ে এসেছে৷ যত শক্তি আছে প্রয়োগ করুন, এসআইআর করুন৷ তৃণমূলের আসন সংখ্যা বাড়বেই৷ বিজেপি নেতারা চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করুন৷’
গত মঙ্গলবার রাজ্য সফরে এসে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসকে তীব্র আক্রমণ করেছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ৷ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে জবাব দিয়ে অভিষেক এ দিন বলেন, ‘অমিত শাহ এসে বলছেন সোনার বাংলা করব৷ তাহলে পাশে সোনার ত্রিপুরা, সোনার অসম, সোনার বিহার হচ্ছে না কেন? মধ্যপ্রদেশে পানীয় জল খেয়ে মানুষের মৃত্যু হচ্ছে৷ যাঁরা বিশুদ্ধ পানীয় জল দিতে পারে না তাঁদের গণতন্ত্র নিয়ে কথা বলা সাজে না৷ বলেছিল বছরে ২ কোটি চাকরি দেব৷ নরেন্দ্র মোদি ১১ বছর ক্ষমতায় আছেন৷ তাহলে ২২ কোটি চাকরি হওয়ার কথা৷ ভারতে ৪১২৩টি বিধানসভা আছে৷ বাংলা ছেড়ে দিলাম, প্রত্যেক বিধানসভায় ৫৩ হাজার চাকরি দেওয়ার কথা৷ নরেন্দ্র মোদির সরকার যদি প্রমাণ করে একটা বিধানসভায় ৫ হাজার চাকরি দিয়েছে, তাহলে রাজনীতির আঙিনায় পা রাখব না৷ খালি মিথ্যে কথা আর জুমলা৷ তাঁদের কাছে আমাদের গণতন্ত্রের পাঠ নিতে হবে?’
