উত্তর প্রদেশের মেরঠের একটি পারিবারিক আদালত প্রণীতা নামের এক মহিলার বিবাহবিচ্ছেদ মঞ্জুর করার পর, তাঁর অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি বাবা আদালত চত্বরের বাইরে ঢোল বাজিয়ে ও মিষ্টি বিতরণ করে সেই মুহূর্তটি উদযাপন করেন। আত্মীয়স্বজনরা ঢোলের তালে নাচেন এবং লাড্ডু বিতরণ করা হয়। এই উদযাপনের ভিডিও শীঘ্রই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায় এবং আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে।
advertisement
ভিডিওটিতে পরিবারের সদস্যদের কালো টি-শার্ট পরা অবস্থায় দেখা যায়, যেগুলোতে প্রণীতার ছবির সঙ্গে লেখা ছিল “আমি আমার মেয়েকে ভালবাসি। আমার হৃদয়, আমার আত্মা।” প্রণীতাও একটি কালো টি-শার্ট পরেছিলেন, যেটিতে লেখা ছিল, “আমার পরিবার, আমার জীবন।”
নিজের যাত্রার কথা বলতে গিয়ে প্রণীতা বলেন, তিনি তাঁর বিয়ে বাঁচানোর চেষ্টা করেছিলেন। “আমি আমার পরিবারকে রক্ষা করতে চেয়েছিলাম। ২০২১ সালেও বিবাহবিচ্ছেদের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। আমার বাবা সবসময় আমাকে সমর্থন করেছেন। আমি আশা করি, সবাই এমন একটি পরিবার পাবে যারা কঠিন সময়ে তাদের পাশে দাঁড়াবে,” তিনি বলেন।
তার বাবা, অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ডঃ জ্ঞানেন্দ্র শর্মা, এই উদযাপনের কারণ ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি বলেন, “আমার মেয়ের জন্মের সময়ও ঢাক বাজানো হয়েছিল। আজ আবার তা বাজানো হলো এটা দেখাতে যে, জীবনের প্রতিটি পর্যায়ে একজন মেয়ের মূল্য একই থাকে।”
প্রণীতা মেরঠের বাসিন্দা ডঃ জ্ঞানেন্দ্র শর্মার একমাত্র কন্যা। ২০১৮ সালে ভারতীয় সেনাবাহিনীর মেজর গৌরব অগ্নিহোত্রীর সঙ্গে তাঁর বিবাহ হয়, যিনি বর্তমানে পাঞ্জাবের জলন্ধরে কর্মরত। এই দম্পতির একটি পুত্রসন্তান রয়েছে।
অভিযোগ, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে প্রণীতা তাঁর শ্বশুরবাড়ির লোকজনের কাছ থেকে ক্রমবর্ধমান হয়রানির শিকার হতে থাকেন। পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে, তিনি বিবাহবিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেন। বিষয়টি পারিবারিক আদালতে পৌঁছয়, যা পরবর্তীতে বিবাহবিচ্ছেদ অনুমোদন করে।
আদালতের আদেশের পর পরই জ্ঞানেন্দ্র ও পরিবারের অন্যান্য সদস্য মেরঠ জেলা আদালতের বাইরে ঢাক-ঢোল, মালা ও মিষ্টির নিয়ে এসে উদযাপন শুরু করেন। আদালতে যা শুরু হয়েছিল, তা শীঘ্রই সারা শহরে আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে।
আরও পড়ুন : ভারতের ‘সবথেকে ছোট্ট নদী’ কোনটা? GK স্ট্রং হলে তবেই পারবেন বলতে! ক্লিক করে দেখুন আপনার উত্তর ঠিক হল কি না!
পরিবারটি ইতিমধ্যেই ব্যক্তিগত ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। ২০২২ সালে এক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রণিতার ভাই মারা যান, যা তাদের গভীরভাবে প্রভাবিত করে। এই সময়ে প্রণীতাকে তাঁর শ্বশুরবাড়িতে প্রতিদিনের হয়রানির শিকার হতে হয় বলে অভিযোগ। তাঁর বাবা তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছিলেন এবং নিজের ভালর জন্য তাঁকে একটি সিদ্ধান্ত নিতে উৎসাহিত করেছিলেন। বিবাহবিচ্ছেদ মঞ্জুর হওয়ার পর, পরিবারটি নীরবে দিনটি পালন না করে, বরং উদযাপন করার সিদ্ধান্ত নেয়।
