এখানে দুটি কুকুরের নামে নামকরণ করা একটি মন্দিরে পূজা হয়। স্থানীয় গ্রামবাসী এবং প্রবীণদের মতে, এই গল্পটি কয়েকশো বছরের পুরনো বলে মনে করা হয়। বলা হয় যে গ্রামে বসবাসকারী দুটি কুকুর হঠাৎ মারা যায়।
গ্রামবাসীরা তাকে পূর্ণ শ্রদ্ধার সঙ্গে সমাহিত করে এবং তার কবরে একটি পাথর স্থাপন করে। এরপর, গ্রামের পরিস্থিতি ধীরে ধীরে পরিবর্তন হতে শুরু করে। ফসল ফলতে শুরু করে, মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি হয় এবং গ্রামে শান্তি ও সুখ বৃদ্ধি পায়। গ্রামবাসীরা বিশ্বাস করতে শুরু করে যে, এই দুটি কুকুর এখন গ্রামকে রক্ষা করছে।
advertisement
আরও পড়ুন: বাংলাদেশে নতুন সরকার এলে ভারতের সবচেয়ে বড় চিন্তা কী হবে? ভয়ঙ্কর পূর্বাভাস হাসিনা আমলের বিদেশমন্ত্রীর
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে, এই বিশ্বাস আরও দৃঢ় হয়ে ওঠে। লোকেরা এই স্থানটি পরিদর্শন করতে এবং শ্রদ্ধায় মাথা নত করতে শুরু করে। স্থানীয় লোককাহিনী এবং গ্রামবাসীদের বিবরণ অনুসারে, এই বিশ্বাস ২০১০ সালে একটি নতুন রূপ নেয়। কথিত আছে যে, গ্রামের শ্রদ্ধেয় দেবী কেম্পাম্মা গ্রামের এক ব্যক্তিকে স্বপ্নে দেখা দিয়েছিলেন এবং তাকে কুকুরের জন্য একটি মন্দির তৈরি করতে বলেছিলেন।
আরও পড়ুন: বন্দে ভারত স্লিপারের স্টপেজ পেল জলপাইগুড়ি, কোন স্টেশনে দাঁড়াবে ট্রেন? যাত্রীরা জানুন
এরপর, গ্রামবাসীরা মিলে সেখানে একটি ছোট মন্দির তৈরি করে, যেখানে কুকুরের দুটি পাথরের মূর্তি স্থাপন করা হয়। আজ, এই মন্দিরটি আর কেবল গ্রামের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। আশপাশের এলাকার মানুষও এখানে আসেন। গ্রামবাসীরা বিশ্বাস করেন যে, এই মন্দির তাদের রোগ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং কুদৃষ্টি থেকে রক্ষা করে। মন্দিরে প্রতিদিন ধূপ জ্বালানো হয় এবং বিশেষ অনুষ্ঠানে প্রার্থনা করা হয়।
স্থানীয়দের মতে, প্রতি বছর এখানে একটি বার্ষিক মেলা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে প্রচুর লোক সমাগম হয়। মেলায় পূজা, প্রসাদ বিতরণ এবং লোক ঐতিহ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত অনুষ্ঠান অন্তর্ভুক্ত থাকে। এই অনুষ্ঠান গ্রামের সামাজিক ঐক্যকেও শক্তিশালী করে।
