এর আরও একটা নাম রয়েছে। আর সেটা হল পার্সিমন। যদিও এই ফল মূলত জাপানে পাওয়া যায়। তবে উত্তরাখণ্ডের কুমায়ুন অঞ্চলে বিশেষ করে পিথোরাগড়ে পার্সিমন ফলের ব্যাপক চাষ হয়।
আর পিথোরাগড়ের চণ্ডাকের হায়দর গার্ডেনে প্রচুর পরিমাণে পার্সিমনের গাছের দেখা পাওয়া যাবে। আর কাকু ফল বা পার্সিমন দেখতে অনেকটা টম্যাটোর মতো। ফলে ফলে গাছের ডাল একেবারে ভরে থাকে।
advertisement
আরও পড়ুন- দাঁড়ানোর ভঙ্গিতেই ফাঁস হয় সে কেমন মানুষ! জেনে নিন গোপন পদ্ধতি, চিনে নিন অন্যদের
এই হায়দর গার্ডেনের বাসিন্দা স্বর্গীয় হায়দর বকশ একসময় পার্সিমন চাষ শুরু করেছিলেন। বাবার মৃত্যুর পরে অবশ্য সেই ধারা বজায় রেখেছেন তাঁর ছেলেরা।
অর্থাৎ হায়দর বকশের ছেলেরাই এখন এই ফল চাষ করছেন। আর চাষ করে পার্সিমন ফলের বিশাল বড় একটা বাগানও তৈরি করে ফেলেছেন তাঁরা। কাকু ফল টম্যাটোর মতো দেখতে, কমলা রঙের হয়। তবে স্বাদেও ভীষণই মিষ্টি।
এই তথ্য ভাগ করে নিয়ে পুষ্টি বিশেষজ্ঞ নিতিন ভরদ্বাজ বলেন, পার্সিমন ফলের মধ্যে পেটের রোগের সঙ্গে লড়াই করার ক্ষমতা রয়েছে। এর মধ্যে থাকে ফাইবার, কার্বোহাইড্রেট, ফ্যাট, ভিটামিন ই, ভিটামিন এ, ভিটামিন সি, সুগার, আয়রন, ক্যালসিয়াম, প্রোটিন এবং ম্যাগনেশিয়াম। যার ফলে পেটের জন্য খুবই উপকারী এই ফল।
আরও পড়ুন- বিদ্যালয়ে ৫ জন শিক্ষক, শিক্ষার্থী নেই একটিও, উত্তরপ্রদেশের ঘটনায় স্তম্ভিত দেশ
যেহেতু এর মধ্যে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার থাকে, তাই তা পেটের যে কোনও সমস্যা দূর করতে পারে। এর পাশাপাশি বদহজম, গ্যাস এবং অ্যাসিডিটির থেকে মুক্তি দিতে সক্ষম এই ফল। যার অর্থ হল, পরিপাকতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে সাহায্য করে পার্সিমন ফল।
শুধু তা-ই নয়, পেটের পাশাপাশি ত্বকের জন্যও অন্যন্ত উপকারী পার্সিমন। সেই সঙ্গে দেহের ইমিউনিটি বাড়াতেও সক্ষম সুস্বাদু এই ফল। আর যেহেতু পার্সিমন ফলে ক্যালসিয়াম এবং ম্যাগনেসিয়াম থাকে, তাই নিয়মিত এই ফল সেবন করলে দেহের হাড় মজবুত হয় এবং গাঁটের ব্যথা বা জয়েন্টের ব্যথাও দূর হয়।
হায়দর বকশের ৮২ বছর বয়সী পুত্র ইকবাল আহমেদ এখনও এই ফলের চাষ করেন। তিনি বলেন, ১৯২০ সালে তাঁর দাদু একটি বাগান তৈরি করেছিলেন। এরপরে তাঁর বাবা হায়দর রামগড় থেকে একটি গাছ কিনে এনে ১৯৩৫ সালে প্রথম পার্সিমন গাছ লাগিয়েছিলেন।
এরপরেই তিনি সেই ধারাকে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছেন। পার্সিমনের গোটা বাগানটি তৈরি করেছেন। আজ ওই বাগানে রয়েছে ১৫০টি পার্সিমন ফলের গাছ। ইকবাল আহমেদের বক্তব্য, এটা আসলে একটা জাপানি ফল। আর আজকের দিনে প্রায় ক্যুইন্টাল ক্যুইন্টাল পার্সিমন ফলে এখানে। তবে তাঁর অভিযোগ, প্রশাসনের গাফিলতির জন্য সঠিক মূল্য পাওয়া যায় না।
