জানা গিয়েছে যে সম্প্রতি চিনে একটি মেরুদণ্ডহীন মাছ তৈরি করা হয়েছে। মেডিক্যাল জার্নাল অ্যাকোয়াকালচারে প্রকাশিত একটি রিভিউ ব্যাখ্যা করে দেখিয়েছে যে এটি কীভাবে সম্ভব হয়েছে। সেই রিভিউ বলছে যে, RunX2b নামে একটি জিন সম্পাদনা করে কিবাল কেন্দাই মাছকে মেরুদণ্ডহীন মাছে রূপান্তরিত করা হয়েছে।
আরও পড়ুন- আমেরিকায় খুন ভারতীয় তরুণী ! অভিযুক্ত প্রাক্তন প্রেমিক পলাতক, নিকিতার পরিচয় জানুন
advertisement
এই জিন পরিবর্তন মাছের বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে তৈরি হওয়া ছোট ছোট হাড় (মেরুদণ্ড) গঠনে বাধা দেয়। চাইনিজ অ্যাকাডেমি অফ সায়েন্সেসের বিজ্ঞানীরা জিন এডিটিং প্রযুক্তি (CRISPR/Cas9) ব্যবহার করে এই সম্পূর্ণ মেরুদণ্ডহীন ক্রুসিয়ান কার্প তৈরি করেছেন।
এই নতুন জাতের মাছের নামকরণ করা হয়েছে ঝংকে নং ৬ (Zhongke No 6)। গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে এর স্বাদ, সুগন্ধ এবং পুষ্টির পরিমাণ হুবহু সাধারণ মাছের মতো। যদিও সাধারণ মাছের তুলনায় কেন্দাই মাছের জিনগত গঠন অনেক বেশি জটিল। কারণ তাদের বহু-স্তরযুক্ত ক্রোমোজোম রয়েছে, মেরুদণ্ডের জন্য দায়ী নির্দিষ্ট জিন (রানএক্স২বি জিন) সঠিকভাবে শনাক্ত এবং সংশোধন করতে যথেষ্ট সময় লেগেছে। এই কারণেই এই গবেষণা ছয় বছর ধরে চলেছিল।
একটি কেন্দাই মাছে সাধারণত ৮০টিরও বেশি ছোট কাঁটা (পেশির মধ্যে হাড়) থাকে, কিন্তু এই নতুন জাতের হাড়ের মধ্যে কেবল বড় হাড় রয়েছে। জিনগতভাবে পরিবর্তিত হওয়ার ফলে মাছের ছোট কাঁটা সম্পূর্ণ অনুপস্থিত। তবে, মাছের অন্যান্য প্রয়োজনীয় হাড় (কঙ্কাল) প্রভাবিত হয় না বলেই জানা গিয়েছে।
গবেষকদের মতে, এই মাছগুলি ২৫% দ্রুত বৃদ্ধি পায়, যার ফলে মাছ চাষের দিক থেকে দেখলে কম সময়ে বেশি লাভ হয়। তাছাড়া, প্রচলিত মাছের তুলনায় তাদের কম খাবারের প্রয়োজন হয়, যা মাছচাষিদের খরচ কমিয়ে দেয়। এমনকি গভীর পুকুরেও এই মাছগুলি তাদের শক্তিশালী রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার কারণে ভালভাবে বৃদ্ধি পায়।
এই মাছগুলিকে প্রজননগত দিক থেকে অক্ষম করা হয়েছে যাতে তারা অন্যান্য বন্য মাছের সঙ্গে মিলিত হতে না পারে এবং পরিবেশগত পরিবর্তন ঘটাতে না পারে। বাজারে কখন এগুলো পাওয়া যাবে সে সম্পর্কে এখনও পর্যন্ত কোনও তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
