গ্লিডেন ইন্ডিয়ার কান্ট্রি ম্যানেজার সিবিল শিডেল জানান, এই বৃদ্ধি সমাজে সম্পর্ক নিয়ে মানুষের ভাবনার পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। তাঁর কথায়, “ভারতে ৪০ লক্ষ ব্যবহারকারীর মাইলস্টোন আমাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। এতে বোঝা যায় ডিজিটাল ব্যবহারের হার দ্রুত বাড়ছে এবং আধুনিক সম্পর্কের ধারণাতেও নীরব পরিবর্তন আসছে। বিশেষ করে মহিলাদের অংশগ্রহণ বাড়া তাদের আত্মবিশ্বাস ও স্বাধীন সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রবণতার প্রতিফলন।”
advertisement
ব্যাগের ভিতর এগুলো কী! থরে থরে টাকার নোট…! কুড়িয়ে পেয়েই কী করল ৯ বছরের শিশু? চমক!
ভারতে ৪০ লক্ষের বেশি মানুষ এক্সট্রা-ম্যারিটাল ডেটিং অ্যাপে! কোন শহর শীর্ষে জানেন?
ব্যবহারকারীদের আচরণ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, সদস্যরা গড়ে প্রতিদিন প্রায় এক থেকে দেড় ঘণ্টা এই প্ল্যাটফর্মে চ্যাট করেন।
দিনের দুটি নির্দিষ্ট সময়ে এই অ্যাপে ব্যবহারকারীদের সক্রিয়তা বেশি দেখা যায়—একটি দুপুর ১২টা থেকে ৩টের মধ্যে এবং অন্যটি রাত ১০টা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত। এতে বোঝা যায় অনেক ব্যবহারকারী দুপুরের বিরতি বা রাতের ব্যক্তিগত সময়ে অ্যাপটি ব্যবহার করেন।
প্ল্যাটফর্মের তথ্য অনুযায়ী, বেশিরভাগ পুরুষ ২৫ থেকে ৩০ বছর বয়সি মহিলাদের খোঁজ করেন। অন্যদিকে মহিলারা সাধারণত ৩০ থেকে ৪০ বছর বয়সি পুরুষদের পছন্দ করেন।
অনেক মহিলাই আর্থিকভাবে স্থিতিশীল পেশাজীবী—যেমন চিকিৎসক, উচ্চপদস্থ কর্পোরেট কর্মী বা চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টদের প্রতি বেশি আগ্রহ দেখান। এতে বোঝা যায়, ডিজিটাল সম্পর্কের ক্ষেত্রেও পেশাগত স্থিতিশীলতা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্লিডেনের মতো প্ল্যাটফর্মের দ্রুত বৃদ্ধি ভারতের সম্পর্কের জগতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। গত এক দশকে ডেটিং অ্যাপ জনপ্রিয় হলেও, গোপন সম্পর্কের জন্য তৈরি একটি আলাদা প্ল্যাটফর্মের উত্থান দেখাচ্ছে যে আধুনিক সমাজে সম্পর্কের ধারণা আরও জটিল হয়ে উঠছে।
বিয়ে এখনও সমাজে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান হলেও, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য নতুনভাবে সঙ্গ, আবেগের প্রকাশ এবং ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের সুযোগ তৈরি করছে।
ভারতের শহরগুলির মধ্যে এই প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারে শীর্ষে রয়েছে বেঙ্গালুরু। মোট ব্যবহারকারীর প্রায় ১৮ শতাংশই এই শহরের। তার পরেই রয়েছে হায়দরাবাদ, যেখানে প্রায় ১৭ শতাংশ ব্যবহারকারী রয়েছে।
এর পরে রয়েছে দিল্লি, যেখানে প্রায় ১১ শতাংশ ব্যবহারকারী। মুম্বইয়ের অংশ প্রায় ৯ শতাংশ এবং পুনে প্রায় ৭ শতাংশ।
তবে এই প্রবণতা এখন শুধু বড় মেট্রো শহরেই সীমাবদ্ধ নয়। লখনউ, চণ্ডীগড়, সুরাত, কোয়েম্বাটুর, ভুবনেশ্বর, পাটনা, গুয়াহাটি ও রায়পুরের মতো দ্বিতীয় সারির শহরগুলিতেও এই ধরনের প্ল্যাটফর্মের ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে।
এই প্ল্যাটফর্মের একটি উল্লেখযোগ্য দিক হল মহিলাদের অংশগ্রহণ দ্রুত বাড়ছে। গত দুই বছরে অ্যাপে যোগ দেওয়া মহিলার সংখ্যা প্রায় ১৪৮ শতাংশ বেড়েছে।
