উদ্ধারের একটি ভিডিও ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই বহু মানুষ বিস্ময় প্রকাশ করেছেন এবং প্রশ্ন তুলেছেন, এতদিন ধরে কী ভাবে বিষয়টি নজরে এল না?
‘ট্রিবিউন ইন্ডিয়া’-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, মীরা ঘাটি চক সংলগ্ন নিজের বাড়িতে অত্যন্ত করুণ অবস্থায় একা বসবাস করছিলেন ওই প্রবীণ হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক। স্থানীয় সমাজকল্যাণমূলক সংস্থা ‘আপনা আশিয়ানা’-র সদস্য রাজ কুমার অরোরা জানান, ব্যক্তি একটি সচ্ছল পরিবারের হলেও সময়ের সঙ্গে তাঁর শারীরিক ও মানসিক অবস্থা অনেকটাই অবনতি ঘটে।
advertisement
সংস্থার পক্ষ থেকে তাঁর স্ত্রীকে যোগাযোগ করা হলে জানা যায়, তিনি দুই মেয়েকে নিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় থাকেন। স্ত্রীর দাবি, তাঁর স্বামী মানসিকভাবে স্থিতিশীল ছিলেন না এবং নিজেই একা থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। সেক্টর ৭-এ তাঁদের বাসভবনে তাঁর দেখভালের জন্য একজন পরিচর্যাকারী নিয়োগ করা হয়েছিল বলেও তিনি জানান।
তবে অভিযোগ, ওই চিকিৎসক সেখানে থাকতে অস্বীকার করেন এবং মীরা ঘাটি চকের বাড়িতেই আলাদা করে বসবাসের সিদ্ধান্তে অনড় থাকেন।
অস্বাস্থ্যকর ও অবহেলিত পরিবেশে দিনযাপন
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, সংস্থার সদস্যরা প্রতিবেশীদের সামনে বাড়ি থেকে ওই বৃদ্ধকে বাইরে নিয়ে আসছেন। ভিডিওর বর্ণনা অনুযায়ী, প্রায় দেড় বছর ধরে তিনি জামাকাপড় বদলাননি। তাঁর পোশাক ও শরীর থেকে তীব্র দুর্গন্ধ বের হচ্ছিল। বাড়ির পরিবেশ ছিল অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর ও অবহেলিত।
নেটমাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া
ঘটনাটি সামনে আসতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। এক ব্যবহারকারী মন্তব্য করেন, “মা-বাবার চেয়ে বড় সম্পদ কিছু নেই। যিনি একসময় মানুষের জীবন বাঁচিয়েছেন, তিনিই নিজের বাড়িতে উপেক্ষিত। এটা শুধু অবহেলা নয়, নৈতিক ব্যর্থতা। বিদেশে সাফল্যের মানে কিছুই নয়, যদি ঘরে সম্মান রক্ষা না হয়। বয়স্কদের সঙ্গে কেমন আচরণ করা হয়, তা দিয়েই সমাজের বিচার হয়। উদ্ধারকারীদের ধন্যবাদ।”
আরেকজন প্রশ্ন তোলেন, “ছেলে-মেয়েরা কি জানতেন না যে তাঁদের বৃদ্ধ বাবা দেশে একা আছেন?”
আরেক মন্তব্যে বলা হয়, “অস্ট্রেলিয়ায় থাকায় কী লাভ, যদি নিজের বাবা-মায়ের দেখভালই না করা যায়?”
কেউ লিখেছেন, “১৮ মাসে একবারও কি প্রতিবেশী, বন্ধু বা আত্মীয় কেউ খোঁজ নিলেন না? সত্যিই দুঃখজনক।”
এক ব্যবহারকারী পরামর্শ দেন, “বিবাহিত-অবিবাহিত, সন্তান থাকুক বা না থাকুক—বার্ধক্য যেন সম্মানের সঙ্গে কাটে, তার পরিকল্পনা নিজেকেই করতে হবে। আজকের ব্যস্ত পৃথিবীতে কেউ কারও জন্য সময় বার করে না।”
