দেব দীপাবলীর অনুষঙ্গে সবার প্রথমে দ্বারস্থ হতে হয় ভারতীয় পুরাণকথার। যা আমাদের জানায় তিন অসুরভ্রাতা এবং তাঁদের ত্রিপুর নামে সুরক্ষিত তিন দুর্গের কথা। বলা হয়, এই তিন ভাই ব্রহ্মাকে তপস্যায় সন্তুষ্ট করে তিন অভেদ্য এবং চলমান দুর্গ লাভ করেছিলেন। বিমানের মতো এই দুর্গ নিয়ে তাঁরা ভ্রমণ করতেন বিশ্বের যে কোনও প্রান্তে, তাঁদের অত্যাচারে পর্যুদস্ত হয়ে উঠত সৃষ্টি।
advertisement
এই সমস্যার প্রতিকারে দেবতারা শিবের দ্বারস্থ হন। ব্রহ্মার বর অনুযায়ী, কার্তিক মাসের এই পূর্ণিমা তিথিতে যখন তিনটি দুর্গ আকাশপথে ঘুরতে ঘুরতে এক জায়গায় আসে, তখন একটি মাত্র তীর ছুড়ে তা অসুর-সহ ধ্বংস করে দেন শিব! ত্রিপুরবিজয়ের এই আনন্দে দীপ জ্বালিয়ে উল্লাসে মত্ত হয়েছিলেন দেবতারা, তাই এই উৎসব দেব দীপাবলী নামে পরিচিত।
অন্য এক লোকবিশ্বাস এ প্রসঙ্গে শিখধর্মের প্রবর্তক গুরু নানকের জন্মের কথা বলে। মনে করা হয়, বিশ্বকে ধর্মাচরণের সঠিক পথ দেখাতে জন্ম নিয়েছেন নানক, এ কথা দেবতাদের অজানা ছিল না। তাই নানক জন্ম নিলে দেবতারা আনন্দে দীপ জ্বালিয়ে সেই তিথি উদযাপিত করেছিলেন।
আবার জৈনরাও এই দিনটিতে অর্চনা করে থাকেন আদিনাথের, তাঁরাও বিশ্বাস করেন যে এই ধর্মগুরুর জন্মের পর অন্তরীক্ষে দেবতারা দীপ জ্বালিয়েছিলেন!
দৃকপঞ্চাঙ্গ অনুসারে এ বছরে দেব দীপাবলীর তিথি ২৯ নভেম্বর বেলা ১২.৪৭ মিনিটে শুরু হয়ে শেষ হচ্ছে ৩০ নভেম্বর বেলা ২.৫৯ মিনিটে। সূর্যোদয়ের আগে স্নান সেরে নিয়ে লক্ষ্মীনারায়ণের পূজার্চনা, বিশেষ করে সত্যনারায়ণের ব্রত উদযাপিত হয়ে থাকে অনেক হিন্দু পরিবারেই! অন্য দিকে, শিখ এবং জৈন ধর্মানুরাগীরা প্রবৃত্ত হন নিজেদের ধর্মগুরুর উপাসনায়!
