ঘটনাটি ঘটেছে গত সপ্তাহে। তাঁর রাত ১১টা ৩০-এর ট্রেন ছ’ঘণ্টা দেরিতে চলবে শুনে তিনি সিদ্ধান্ত নেন বাড়ি ফিরে সকালে আবার যাবেন। ১১টা ৪৫ মিনিটে শেষ মেট্রো ধরেন এবং প্রায় ১২টা ২০ মিনিটে স্টেশনে পৌঁছন। স্টেশন কার্যত ফাঁকা ছিল। সেই সময়ই তিনি লক্ষ্য করেন একজন পুরুষ বারবার তাঁর দিকে তাকিয়ে রয়েছে।
advertisement
ফ্যাটি লিভার ঘরে ঘরে! যকৃত ‘পরিষ্কার’ রাখার জন্য ঘরোয়া সহজ রেসিপি শিখুন! খেলেই প্রাকৃতিক ডিটক্স
তিনি লেখেন,
“ভাবলাম ঠিক আছে, লোকটা হয়তো বেরোতেই চাইছে। কিন্তু লিফটের কাছে গিয়ে তাকে আবার দেখলাম। লিফট একটু আগে উঠে গিয়েছিল, তাই আমি এস্কেলেটর নিলাম। স্টেশন থেকে বেরোতেই দেখি লোকটা বাইরে দাঁড়িয়ে অদ্ভুতভাবে তাকিয়ে আছে।”
প্রথমে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান এবং নিজের বাড়ির দিকে হাঁটা শুরু করেন— দূরত্ব প্রায় ২ কিমি। কিন্তু কিছুক্ষণ পরেই দেখেন একই লোক পিছন থেকে তাঁকে অনুসরণ করছে। শুরুতে আশেপাশে দু’-একজন থাকায় খুব ভয় পাননি, কিন্তু রাস্তা পুরো ফাঁকা হয়ে গেলে পরিস্থিতি অস্বস্তিকর হয়ে ওঠে। অপরিচিত লোকটি ঠিক তাঁর পেছন পেছন হাঁটছিল।
When even men feel unsafe in Delhi
মাকে ফোন করেন Reddit ব্যবহারকারী
হঠাৎ বিপদের আশঙ্কা করে তিনি মাকে ফোন করেন এবং পুরো পথ বাড়ি পৌঁছোনো পর্যন্ত লাইনে ছিলেন— যদিও পরিস্থিতি মাকে জানাননি। বাড়ির কাছে এসে তাঁকে একটি সিদ্ধান্ত নিতে হয়— অন্ধকার পার্কের রাস্তা, নাকি কলোনির গেট? যা রাত ১২টার পরে বন্ধ থাকে।
তিনি লেখেন,
“আমি পার্কের দিকটা নিতাম সাধারণত। কিন্তু হঠাৎ দেখি আমাদের কলোনির একজন ডমিনোজের অর্ডার নিতে এসেছে। তাকে দেখে সঙ্গে সঙ্গে রুট বদলে কলোনি গেটের দিকে হাঁটা শুরু করি। নিরাপদে ঢুকে পড়ি।”
এরপর পিছনে ফিরে তাকাতেই দেখেন, সেই লোক এখনও দাঁড়িয়ে রয়েছে— তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে। সময় তখন রাত ১টা।
Reddit-এ প্রতিক্রিয়া
পোস্টটি ভাইরাল হওয়ার পর বহু ব্যবহারকারী নিজেদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন। কেউ বলেছেন,
“দিল্লিতে বড় হয়ে ওঠা— তারপরেও রাতের পর নিরাপত্তা ভীষণ খারাপ।”
আরেকজন লিখেছেন,
“১১টার পর দিল্লিতে বেশিরভাগ ক্যাব ড্রাইভারই মদ্যপ থাকে। খুবই অনিরাপদ।”
এক Reddit ব্যবহারকারী লেখেন,
“সেই রাতটা নিঃসন্দেহে ভয়ানক ছিল। তুমি যে ঠান্ডা মাথায় সামলেছ, তা সত্যিই প্রশংসনীয়।”
এক ব্যক্তি নিজের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা বলেন:
“হাউজ খাস ভিলেজ রোড থেকে বাড়ি ফিরছিলাম। রাত ১১টা। হঠাৎ একটা মার্সিডিজ ধীরে ধীরে পাশে এসে দাঁড়ায়। চারজন বলিষ্ঠ লোক। জিজ্ঞেস করল ‘ক্যা চাইয়ে?’ তার পর বলল— ‘তেরে ও করনা হ্যায়… আজা গুরগাঁও লে চলে।’ অশালীন ইঙ্গিত! দৌড়ে বাড়ি ঢুকি— এখনও মনে করলে গা শিউরে ওঠে।” পোস্টদাতা শেষে লিখেছেন, “এর আগেও রাতের ট্রেন ধরেছি, রাতে ঘুরেছি। কিন্তু চার বছরে প্রথমবার এমন ভয় পেলাম।”
