ভাইরাল ভিডিয়োতে দেখা যায়, ভারী বোঝার চাপে ডেলিভারি কর্মী বারবার থমকে যাচ্ছেন। এক পর্যায়ে ভারসাম্য হারানোর মতো পরিস্থিতিও তৈরি হয়। তবুও কষ্ট সহ্য করে তিনি সিঁড়ি বেয়ে উঠে শেষ পর্যন্ত নির্দিষ্ট ফ্ল্যাটে পার্সেল পৌঁছে দেন। কিন্তু সেই লড়াই সেখানেই শেষ হয়নি।
এই ভিডিয়ো ঘিরে সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। এক ব্যবহারকারী এক্স (আগের টুইটার)-এ ভিডিয়োটি পোস্ট করে লেখেন, “ডেলিভারি কর্মীদের লিফট ব্যবহার করতে বাধা দেওয়া আসলে নতুন ধরনের অস্পৃশ্যতা।” এই মন্তব্যের পরই শুরু হয় বিস্তর আলোচনা।
কেউ কেউ সেই বক্তব্যের বিরোধিতা করে বলেন, “পার্সেলটা এত বড় যে লিফটের দরজায় ঠিকমতো ঢুকত না। শেষে ফ্ল্যাটের মূল দরজায় ঢুকতেও কষ্ট হয়েছে। সব কিছুর মধ্যে জাতপাতের প্রসঙ্গ টেনে আনা ঠিক নয়।” আরেকজন লেখেন, “অনেক সোসাইটিতে সার্ভিস লিফট নেই। মূল লিফট ছোট হওয়ায় বা অতিথিদের জন্য ফাঁকা রাখতে অনেক জায়গায় ডেলিভারি কর্মীদের সিঁড়ি ব্যবহার করতে বলা হয়। গুরগাঁওয়ের অনেক লো-রাইজ সোসাইটিতে এটা দেখা যায়। তবে হাই-রাইজ সোসাইটিতে সাধারণত লিফট ব্যবহার করতে দেওয়া হয়।”
একাংশের মতে, ভারী জিনিস লিফটে তুললে যান্ত্রিক সমস্যা দেখা দেয়। এক জন লেখেন, “এটা কীভাবে অস্পৃশ্যতা হল? যাঁরা এই পোস্ট করছেন, তাঁরা সম্ভবত ফ্ল্যাটের মালিক নন। ভারী জিনিস লিফটে তুললে লিফট নষ্ট হয়, মেরামতের খরচও অনেক। সিঁড়ি ব্যবহার করাই বা ভুল কোথায়? একজনের বদলে দু’-তিনজন মিলে জিনিস তুললেই তো হয়।”
তবে অনেকেই ডেলিভারি কর্মীর কষ্টের ছবি দেখে সহানুভূতি প্রকাশ করেছেন। এক জন লেখেন, “ভিডিয়োটা দেখে মনটা ভেঙে যায়। কাজ করতে গিয়ে কাউকে এমন কষ্ট পাওয়া উচিত নয়। একটু সহানুভূতিই অনেক কিছু বদলে দিতে পারে।” আরেকজনের মন্তব্য, “এটা শুধু অস্পৃশ্যতা নয়, নির্মমতা।”
আরও একজন লিখেছেন, “জাতপাত আর অস্পৃশ্যতা কখনওই শেষ হয় না। আজকের দিনে গিগ ওয়ার্কার আর কম আয়ের মানুষদের এভাবেই তুচ্ছ করা হচ্ছে।” এক ইন্টিরিয়র ডিজাইনার মন্তব্য করেন, “বিল্ডাররা যখন কাজের জন্য লিফট ব্যবহার করতে দেন না, তখন সত্যিই কষ্ট লাগে। শ্রমিকরাও মানুষ, যন্ত্র নয়। এ বিষয়ে স্পষ্ট নিয়মকানুন থাকা দরকার।”
ভাইরাল এই ভিডিয়ো ফের প্রশ্ন তুলে দিয়েছে—শহুরে সমাজে সুবিধা ও মানবিকতার ভারসাম্য ঠিক কোথায় দাঁড়িয়ে।
