আসলে বিষয়টি মোটেও মজার নয়। বরং এর মধ্যে লুকিয়ে রয়েছে এক তীব্র যন্ত্রণা আর ভয়ঙ্কর আশঙ্কার মেঘ। গুজরাতের ভারুচ জেলার অঙ্কলেশ্বরের পরিচিতি শিল্পতালুক হিসাবে। অঙ্কলেশ্বর জিআইডিসিতে গড়ে ওঠা শিল্পসংস্থায় স্থানীয়দের পাশাপাশি ভিন রাজ্য থেকেও বহু মানুষ আসছেন কাজের জন্য। তাই গত কয়েক বছরে এই এলাকায় মনুষ্যবসতি ক্রমশ ঘন হয়েছে।
কিন্তু বিপদ ঘনাচ্ছে অন্যত্র। এলাকার জলে প্রতিনিয়ত মিশছে বিষাক্ত রাসায়নিক, অতি উচ্চমাত্রায়। তার ফলে মানুষ তো বটেই পশুরাও পড়েছে মারাত্মক বিপদের মুখে। এই নীল বর্ণ কুকুরটিও তারই দৃষ্টান্ত।
advertisement
তবে এই কুকুরটিই প্রথম নয়। এর আগে দেখা গিয়েছিল একটি গোলাপি কুকুর। আসলে এখানে রয়েছে অনেক রঙের কারখানা। সেই সব রঙই প্রাণীদের শরীরে লাগছে বলে মনে করা হচ্ছে। এই সব কারখানার আশপাশে বহু রঙিন প্রাণীর দেখা মেলে। কিছু দিন আগে এই এলাকায় একটি গোলাপি কুকুর দেখা গিয়েছিল। সেই সময় তুমুল চর্চা হয় গোলাপি কুকুর নিয়ে। আর এবার নীল কুকুরটি উঠে এসেছে আলোচনার কেন্দ্রে।
রাস্তায় ঘুরে বেড়ানো এই নীল রঙের এই কুকুর দেখে মানুষ হতবাক। তবে অনেকেই মনে করছেন রঙের কারখানার আশপাশে ঘুরে বেড়ানো এই কুকুরগুলির গায়ে লেগেছে কারখানায় উৎপাদিত রঙই।
পশুপ্রেমী সংগঠনগুলির মতে, রং প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের রাসায়নিক বর্জ্য মিশ্রিত জলই এই অবস্থার জন্য দায়ী। এই জলের কারণেই কুকুরের গায়ের রং বদলে গিয়েছে। অঙ্কলেশ্বর জিআইডিসি-এর আশেপাশে অনেক কারখানা থেকেই দূষিত জল বেরিয়ে আসে বাইরে। নির্দিষ্ট বর্জ্য নিষ্কাশন পদ্ধতি মানে না প্রায় কেউই।
এই কারখানাগুলির আশপাশে অনেক শ্রমিক পরিবারও বসবাস করে। বিষাক্ত রাসায়নিকের প্রভাব পড়তে পারে তাঁদের শরীরেও, মনে করছেন চিকিৎসকরা। গুজরাত দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের এবিষয়ে নজরদারি চালানোর দাবিও রয়েছে দীর্ঘদিন ধরেই।
