ভিডিওর ক্যাপশনে তরুণী লেখেন, “এটা কোনও অসুবিধা নয়, এটা স্পষ্ট বৈষম্য। আজ একজন র্যাপিডো চালক আমার হুইলচেয়ার নিতে অস্বীকার করেছেন। জায়গা ছিল, কিন্তু আমার প্রতিবন্ধকতা তাঁকে অস্বস্তিতে ফেলেছে। তিনি শুনতেও চাননি, চেষ্টা করতেও চাননি। আমার হুইলচেয়ার কোনও বিকল্প নয়, আমার চলাফেরার অধিকারও আলোচনা সাপেক্ষ নয়। যদি আপনার পরিষেবা ‘সবার জন্য’ হয়, তবে তা সত্যিই সবার জন্য হতে হবে।”
advertisement
‘কলকাতায় হামলা করব’! ভারতকে কড়া হুঁশিয়ারি পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর, কী শর্ত দিলেন তিনি?
মহাকুম্ভ থেকে ছাদনাতলায়! ‘আইআইটি বাবা’ অভয় সিংহের প্রেমের পরিণতি, কে হলেন তাঁর জীবনসঙ্গিনী?
তিনি আরও বলেন, সব ক্যাব চালকদের জন্য প্রতিবন্ধিতা সম্পর্কে সচেতনতা জরুরি, পাশাপাশি মানুষের ন্যূনতম মানবিকতা থাকা প্রয়োজন। তিনি র্যাপিডো কর্তৃপক্ষকে ট্যাগ করে এই ঘটনার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার আবেদন জানান।
ভিডিওটি দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়। বহু নেটিজেন চালকের আচরণের তীব্র সমালোচনা করেন এবং তরুণীর পাশে দাঁড়ান। অনেকেই মন্তব্য করেন, এই ঘটনা সমাজে প্রতিবন্ধীদের প্রতি সংবেদনশীলতার অভাবেরই প্রতিফলন।
একজন ফিজিওথেরাপিস্ট মন্তব্য করেন, “হুইলচেয়ার কোনও সীমাবদ্ধতা নয়, বরং স্বাধীনতার মাধ্যম। পরিবহণের মতো মৌলিক পরিষেবা থেকে কাউকে বঞ্চিত করা মানে তাঁর মর্যাদা ও জীবনের মানে আঘাত করা।”
আবার এক ক্যাব চালক লেখেন, “আমি নিজেও ওলা, র্যাপিডো, উবারে গাড়ি চালাই। যাঁরা হাঁটতে পারেন না বা হুইলচেয়ার ব্যবহার করেন, তাঁদের আমি অগ্রাধিকার দিই। দরজা খুলে সাহায্য করি, নিরাপদে ওঠানামা করাই। সব চালকদের আরও দায়িত্বশীল হওয়া উচিত।”
তবে কিছু মন্তব্যে ভিন্ন সুরও শোনা যায়। কেউ কেউ দাবি করেন, চালকের ব্যক্তিগত স্বাচ্ছন্দ্যের ভিত্তিতে যাত্রী নিতে অস্বীকার করার অধিকার থাকা উচিত। এক ব্যবহারকারী লেখেন, “ওর ইচ্ছা, সে আপনার দাস নয়। কেউ ‘না’ বললে কি তাকে সোশ্যাল মিডিয়ায় দোষারোপ করবেন?” আরেকজন মন্তব্য করেন, “নিজের গাড়ি কিনুন।”
এই ধরনের মন্তব্য ঘিরেও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অনেকের মতে, এই প্রতিক্রিয়াগুলি সমাজে গেঁথে থাকা পক্ষপাতদুষ্ট মনোভাবেরই প্রতিফলন।
ঘটনার প্রেক্ষিতে র্যাপিডো সংস্থা ক্ষমা চেয়ে জানায়, এই আচরণ তাদের পরিষেবা নীতির পরিপন্থী। তারা বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করবে বলে জানিয়েছে। এই ঘটনা আবারও প্রশ্ন তুলেছে—প্রযুক্তি যতই এগোক, সমাজ কি সত্যিই সমান সুযোগ দিতে প্রস্তুত?
