নয়াদিল্লি: গত বৃহস্পতিবারই নিউ ইয়র্কের প্রথম মুসলিম এবং সর্বকনিষ্ঠ মেয়র হিসাবে শপথগ্রহণ করেছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত ডেমোক্র্যাটিক সোশ্যালিস্ট জোহরান মামদানি৷ কার্যত, ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন চলচ্চিত্র পরিচালক মীরা নায়ারের পুত্র৷ আর তার পরের দিনই মামদানির পাঠানো হাতে লেখা একটি ছোট্ট চিঠি ঘিরে আলোচনা শুরু হয়ে গেল ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে৷ জানা গেল, গত ৫ বছর ধরে কারারুদ্ধ দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্রনেতা উমর খালিদকে একটি চিঠি পাঠিয়েছিলেন মামদানি৷ লিখেছিলেন, ‘আমরা তোমার কথা ভাবি৷’
advertisement
বৃহস্পতিবার মামদানির মেয়র পদে শপথগ্রহণের পরেই সোশ্যাল মিডিয়া ‘X’-এ সেই হাতে লেখা চিঠির একটি ছবি পোস্ট করেন উমর খালিদের পার্টনার বনজ্যোৎস্না লাহিড়ি৷ দেখা যায়, সাধারণ কাগজে হাতে লেখা সেই ছোট্ট চিঠিতে লেখা রয়েছে, ‘প্রিয় উমর, তুমি যে তিক্ত পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে, সে সম্পর্কে তোমার বলা কথা এবং সেই তিক্ততাকে তোমার উপরে প্রভাব ফেলতে না দেওয়ার কথা আমি প্রায়শই ভাবি৷ তোমার বাবা-মায়েরা সঙ্গে দেখা করে ভাল লাগল৷ আমরা সবাই তোমার কথা ভাবি৷’
আরও পড়ুন: ‘মাঠ জুড়েই খেলবেন দিলীপ’, ছাব্বিশে BJP-র প্ল্যান? নেতার পছন্দের ময়দান কিন্তু খড়্গপুর
বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে উমরের বাবা-মা সাহিবা খানম এবং সঈদ কাসিম রসুল ইলিয়াস তাঁদের ছোট মেয়ের বিয়ের আগে আমেরিকায় বসবাসকারী তাঁদের বড় মেয়ের কাছে গিয়েছিলেন৷
বনজ্যোৎস্না জানিয়েছেন, ‘‘সেখানেই মামদানি সহ অন্যান্যদের সঙ্গে দেখা হয় ওঁদের৷ খানিকটা সময়ও তাঁরা একসঙ্গে কাটান৷ সেখানেই মামদানি তাঁদের হাতে এই নোটটি তুলে দেন৷’’
সংবাদমাধ্যম সূত্রের খবর, শুধুমাত্র মামদানিই নন, আমেরিকার আরও ৮ আইনপ্রণেতা ওমরের জামিন ও তাঁর বিচারের দ্রুত শুনানির সপক্ষে সওয়াল করেছেন৷ এবিষয়ে ওয়াশিংটনে অবস্থানকারী ভারতীয় অ্যাম্বাসেডরকে লিখিত চিঠিও পাঠিয়েছেন তাঁরা৷
২০২০ সালে দিল্লি হিংসার ঘটনায় অন্যতম চক্রান্তকারী সন্দেহে গত ৫ বছর আগে গ্রেফতার করা হয় উমর খালিদকে৷ তখন তিনি জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রনেতা৷ তাঁর বিরুদ্ধে UAPA আইন, অর্থাৎ, দেশদ্রোহমূলক কাজের অভিযোগ আনা হয়েছিল৷ তারপর থেকে গত ৫ বছর তিনি জেলবন্দি৷ এখনও শুরু হয়নি তাঁর মামলার শুনানি৷
আমেরিকার আইনসভার সদস্যদের পাঠানো চিঠিতে সই করেছেন জিম ম্যাকগভার্ন, জেমি রাসকিনের মতো নেতারা৷ রয়েছেন প্রমীলা জয়পাল, রাশিদা তালেব, পিটার ওলেচের মতো ডেমোক্র্যাটিক নেতারা৷ তাঁরা জানিয়েছেন, ‘ভারতীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার উপরে তাঁদের আস্থা রয়েছে৷ কিন্তু, বিচার ছাড়া এতদিন কারও কারাবাসও আন্তর্জাতিক আইন বিরোধী৷
অন্যদিকে, এদিন মামদানির চিঠি সামনে আসার পরে তা নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ৷ পরিষদের মুখপাত্র বিনোদ বনশল বিষয়টিকে অত্যন্ত ‘বিস্ময়কর’ বলে জানান, ‘‘ও (মামদানি) তো শুধু নিউ ইয়র্কের মেয়র হয়েছে সবে৷ আর তাতেই ভারতের সুবিচার ব্যবস্থা নিয়ে কথা বলছে৷ মামদানি নিজেকে ভারতীয় বংশোদ্ভূত বলে বটে, কিন্তু ওর কথাতেই বোঝা যায় ওর আসল উৎস কোথায়৷ শারজিল ইমাম এবং উমর খালিদকে ও বাঁচাতে চায় কেন? মুসলিম বলে? নিউ ইয়র্কের মেয়রের এমন ভাবনাচিন্তা থাকা ঠিক নয়৷ যখন পাকিস্তান, বাংলাদেশ এবং আফগানিস্তানে হিন্দারা আক্রান্ত হয়, তখন চুপ থাকেকেন?’’
