প্রথমে এই ঘটনাকে স্বাভাবিক মৃত্যু বলে ধরে নিয়েছিল পুলিশ৷ কিন্তু ফরেন্সিক পরীক্ষায় ধরা পড়ে ওই ব্যক্তিকে শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়েছে৷ এর পরেই অভিযুক্ত দু জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ৷
মৃত ওই ব্যক্তির নাম লোকম শিভানাগারাজু৷ তাঁকে খুন করার অভিযোগে মৃতের স্ত্রী লক্ষ্মী মাধুরী এবং তাঁর প্রেমিক গোপীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ৷ তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, গোপীর সঙ্গে মাধুরীর বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক ছিল৷ যদিও কতদিন ধরে তাঁরা এই সম্পর্কে ছিলেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়৷
advertisement
জানা গিয়েছে, ঘটনার দিন রাতে স্বামীর জন্য বিরিয়ানি রান্না করেন মাধুরী৷ তার মধ্যে প্রচুর পরিমাণে ঘুমের ট্যাবলেট গুঁড়ো করে মিশিয়ে দেন তিনি৷ সেই বিরিয়ানি খেয়েই গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন হয়ে পড়েন শিভানাগারাজু৷ সেই সুযোগেই প্রেমিককে বাড়িতে ডেকে নেন মাধুরী৷ এর পরে বালিশ চাপা দিয়ে দু জন মিলে শিভানাগারাজুকে খুন করেন৷
যদিও গ্রামবাসীদের কাছে মাধুরী দাবি করেন, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তাঁর স্বামীর মৃত্যু হয়েছে৷ ভোরের দিকে আচমকাই কান্নাকাটি শুরু করেন মাধুরী৷ গ্রামবাসীরা সাহায্যে এগিয়ে এলে তিনি দাবি করেন, আচমকাই অসুস্থ হয়ে মৃত্যু হয়েছে নাগারাজুর৷
কিন্তু তাতেও শেষরক্ষা হয়নি৷ মৃতের বাবা এবং বন্ধুরা নাগারাজুর দেহে রক্তের দাগ দেখতে পান৷ এতেই তাঁদের মনে সন্দেহ দানা বাধে৷ এর পরই তাঁরা পুলিশে অভিযোগ দায়ের করেন৷ তদন্ত শুরু করে পুলিশ৷ ময়নাতদন্তে উঠে আসে, শ্বাসরোধ করেই ওই ব্যক্তিকে খুন করা হয়েছে৷ তাঁর বুকেও আঘাতের চিহ্ন মেলে৷ এর পরেই প্রমাণ হয়ে যায় ওই ব্যক্তির স্বাভাবিক মৃত্যু হয়নি৷ ময়নাতদন্ত রিপোর্ট হাতে আসার পরই মাধুরী এবং তাঁর প্রেমিক গোপীকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে পুলিশ৷
প্রাথমিক ভাবে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত কিছু রিপোর্টে দাবি করা হয়, খুনের পর সারারাত স্বামীর মৃতদেহের পাশেই মোবাইলে পর্ন ভিডিও দেখেন মাধুরী৷ যদিও গুন্টুরের পুলিশ সুপার বকুল জিন্দাল দাবি করেন, মৃত শিভানাগারাজুই তাঁর স্ত্রীর মোবাইল ফোনে নিয়মিত পর্ন ভিডিও দেখতেন৷ তা নিয়ে স্বামী স্ত্রীর মধ্যে মাঝেমধ্যেই বচসা হতো৷
পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে নিজের প্রেমিকের সাহায্য নিয়ে স্বামীকে খুনের পরিকল্পনা এবং হত্যার কথা স্বীকার করে নেন মাধুরী৷ এর পরেই দু জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ৷
