প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথোপকথনের পর সামাজিক মাধ্যম এক্সে বার্তা দেন ডেলসি রদ্রিগেজ। তিনি জানান, এই আলোচনা ছিল গভীর মানবিক ও আধ্যাত্মিক সংযোগে পরিপূর্ণ। রদ্রিগেজ লেখেন, ভারত ও ভেনেজুয়েলা সব ক্ষেত্রেই দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও গভীর ও বিস্তৃত করতে সম্মত হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি ভারতের সরকার ও জনগণের সংহতির জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী মোদি ভেনেজুয়েলার শান্তি, সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতা রক্ষায় সে দেশের জনগণের পাশে থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
advertisement
গোটা বই নয়! জীবনবিজ্ঞানে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে পড়ুন এটা! নম্বর উঠবে ৯০ শতাংশের কাছে
রদ্রিগেজ আরও জানান, আলোচনায় শক্তি, কৃষি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, ওষুধ শিল্প, খনি, অটোমোবাইল এবং পর্যটন ক্ষেত্রে কৌশলগত সহযোগিতার বিষয়ে মতবিনিময় হয়েছে। ২০২৬ সাল থেকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক পুনরুজ্জীবিত করতে একটি যৌথ রোডম্যাপ নিয়েও দুই দেশ একমত হয়েছে।
দীর্ঘ এক দশক ধরে চরম মূল্যবৃদ্ধি, সামাজিক অস্থিরতা ও মানবিক সংকটে জর্জরিত ভেনেজুয়েলা বর্তমানে এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। বিশ্বের বৃহত্তম প্রমাণিত তেলভান্ডার থাকা সত্ত্বেও গত দশকে দেশের অর্থনীতি প্রায় ৮০ শতাংশ সঙ্কুচিত হয়েছে। ২০২৪ সালের বিতর্কিত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পর নতুন করে বিক্ষোভ ও আন্তর্জাতিক বিচ্ছিন্নতার মুখে পড়ে দেশটি।
পরিস্থিতির নাটকীয় পরিবর্তন ঘটে ২০২৬ সালের জানুয়ারির শুরুতে, যখন দীর্ঘদিনের শাসক নিকোলাস মাদুরো ক্ষমতাচ্যুত হন। এর পর দেশজুড়ে ক্ষমতার শূন্যতা তৈরি হলে সুপ্রিম ট্রাইব্যুনাল অব জাস্টিস হস্তক্ষেপ করে। সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে ভাইস প্রেসিডেন্ট দায়িত্ব নেন। সেই অনুযায়ী, ৫ জানুয়ারি ২০২৬ ডেলসি রদ্রিগেজ কার্যনির্বাহী রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন।
কূটনীতিক ও আইনজীবী রদ্রিগেজ ২০১৮ সাল থেকে ভেনেজুয়েলার ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন এবং ‘চাভিস্তা’ আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ মুখ হিসেবে পরিচিত। তাঁর নেতৃত্বে নতুন সরকার সংস্কার ও অর্থনৈতিক উদারীকরণের পথে এগোচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তেল খাতে বিদেশি বিনিয়োগ ও বেসরকারিকরণের অনুমতি দিতে শক্তি আইনে পরিবর্তন আনা হয়েছে, যা দীর্ঘদিনের রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত নীতির থেকে একটি বাস্তববাদী সরে আসার ইঙ্গিত।
ভারতের কাছে ভেনেজুয়েলার স্থিতিশীলতা কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে শক্তি নিরাপত্তার দিক থেকে। নিষেধাজ্ঞার আগে ভেনেজুয়েলা ছিল ভারতের তেল শোধনাগারগুলির জন্য ভারী অপরিশোধিত তেলের অন্যতম প্রধান উৎস। শুক্রবারের আলোচনায় বাণিজ্য, ওষুধ শিল্প ও ডিজিটাল প্রযুক্তিতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে দুই দেশ একমত হয়েছে। এর আগে কারাকাসে হিংসা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে শান্তিপূর্ণ সমাধানের পক্ষে সওয়াল করেছিল ভারত।
রদ্রিগেজ প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়ে ভারত একদিকে যেমন শক্তি সহযোগিতা পুনরুজ্জীবিত করতে চাইছে, তেমনই ভেনেজুয়েলার শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক রূপান্তর প্রক্রিয়াকে সমর্থন করার বার্তাও দিচ্ছে। রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি ও বৈশ্বিক অর্থনীতির সঙ্গে পুনঃসংযোগের পথে এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে ভারত–ভেনেজুয়েলা সম্পর্ক সংকট মোকাবিলার পর্যায় পেরিয়ে দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতা ও যৌথ উন্নয়নের দিকে এগোতে চলেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
