মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন, ভবিষ্যতে এ’ধরণের ঘটনা রুখতে রাজ্যজুড়ে সংশোধনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। তিনি কর্মকর্তাদের এই পদক্ষেপগুলির জন্য একটি সময়বদ্ধ কর্মসূচি তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি,ইনদওরের ভগীরথপুরা এলাকায় দূষিত জলের কারণে ছ’মাসের এক শিশু-সহ ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে স্বাস্থ্য দফতর মাত্র চারটি মৃত্যুর খবরই নিশ্চিত করেছে। তবে, ইনদওরের মেয়র পুষ্যমিত্র ভার্গভ জানিয়েছেন, তিনি ১০ জনের মৃত্যুর তথ্য পেয়েছেন।
advertisement
‘এক্স’ হ্যান্ডেলে একটি পোস্টে মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদব জানান, ইনদওর মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের কমিশনার ও অতিরিক্ত কমিশনারকে শো-কজ নোটিস জারি করার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি আরও জানান, অতিরিক্ত কমিশনারকে অবিলম্বে ইনদওর থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জল সরবরাহ বিভাগ থেকে ভারপ্রাপ্ত সুপারিন্টেন্ডিং ইঞ্জিনিয়ারকে দায়িত্ব প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছেন। যাদব বলেন, মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনে প্রয়োজনীয় নিয়োগগুলো যেন দ্রুত করা হয়, সে নির্দেশও তিনি দিয়েছেন।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, দূষিত পানীয় জলের সমস্যায় রাজ্য সরকারের পদক্ষেপ নিয়ে তিনি মুখ্যসচিব ও অন্যান্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে পর্যালোচনা করেছেন এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশ জারি করেছেন। সভায় নগর প্রশাসন ও উন্নয়ন বিভাগের অতিরিক্ত প্রধান সচিবের পেশ করা রিপোর্ট নিয়েও আলোচনা হয়।
মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদব বলেন, ” ইনদওরে দূষিত পানীয় জল সরবরাহের ফলে ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক ঘটনার জন্য দায়ী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি আমরা রাজ্যের অন্যান্য অংশের জন্যও সংশোধনমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করছি। এর জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের একটি সময়বদ্ধ কর্মসূচি তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”
এক প্রশাসনিক আধিকারিক জানান, মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের ভিত্তিতে ইনদওর মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের (আইএমসি) এক জোনাল অফিসার এবং এক সহকারী ইঞ্জিনিয়ারকে ইতিমধ্যেই সাসপেন্ড করা হয়েছে। গত ৯ দিনে ভগীরথপুরা এলাকায় ১,৪০০-রও বেশি মানুষ বমি ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন বলে আধিকারিকরা জানিয়েছেন।
তাঁদের আরও দাবি, ভাগীরথপুরার একটি পুলিশ ফাঁড়ির কাছে পানীয় জলের পাইপলাইনে একটি লিকেজ ধরা পড়ে। ওই জায়গার উপরেই একটি টয়লেট তৈরি করা হয়েছে। এই লিকেজের কারণেই জল সরবরাহ দূষিত হয়েছে।
