আজ, বুধবার গাজিয়াবাজের হরিশ রাণার বাবা-মায়ের অনুরোধ মেনে নিল সুপ্রিম কোর্ট৷ দিল হরিশের লাইফ সাপোর্ট প্রত্যাহারের অনুমতি। পাশাপাশি, এদিনের রায়ে আদালত কেন্দ্রকে প্যাসিভ ইউথানেশিয়া সংক্রান্ত একটি আইন আনার কথা বিবেচনা করারও পরামর্শ দিয়েছে৷
২০১৩ সাল৷ আর পাঁচটা ছেলের মতো পঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে গিয়েছিল হরিশ৷ থাকত, একটা পেয়িং গেস্ট আবাসনে৷ সেই আবাসনের চতুর্থ তলা থেকেই একদিন হঠাৎ পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হন তিনি। তাঁকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। চিকিৎসাও চলে৷ কিন্তু, ভেজিটেটিভ স্টেট থেকে ফেরানো যায়নি কোয়াড্রিপ্লেজ়িয়ায় আক্রান্ত হরিশকে৷
advertisement
শ্বাস-প্রশ্বাস নেওয়ার জন্য ছিল ট্র্যাকিওস্টোমি টিউব৷ খাওয়ানোর জন্য গ্যাস্ট্রোজেজুনোস্টোমি টিউব৷ সেই নিয়েই আটকে একটা বিছানায়৷ টানা ১৩ বছর৷ বাবা-মায়েরা আশঙ্কা ছিল, তাঁদেরও তো বয়স হচ্ছে, তাঁরা চলে গেলে কে দেখবে তাঁদের ছেলেকে? তাই বাবা-মা হয়েও সন্তানের ‘স্বেচ্ছামৃত্যু’র আর্জি জানিয়ে দোরে দোরে ঘুরছিলেন৷ চিকিৎসক বোর্ডের সিদ্ধান্তে অবশেষে হরিশের বাবা-মায়েরা সেই আর্জি মানল আদালত৷
বিচারপতি জেবি পারদিওয়ালা এবং বিচারপতি কেভি বিশ্বনাথনের বেঞ্চ এদিন জানায়, ৩২ বছরের হরিশ রাণা, যিনি গত ১৩ বছর ধরে ভেজিটেটিভ স্টেটে রয়েছেন এবং সুস্থ হওয়ার আশা কার্যত শূন্য— তাঁর মেডিক্যাল ট্রিটমেন্ট ধীরে ধীরে প্রত্যাহার করা হোক৷
সর্বোচ্চ আদালতের তরফে দিল্লি এইমসকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে রানাকে তাঁদের অধীনে ভর্তি নিয়ে লাইফ সাপোর্ট প্রত্যাহারের ব্যবস্থা করতে।
প্রসঙ্গত, অরুণা সানবাগের মামলায় ২০১৮ সালে প্যাসিভ ইউথেনেসিয়া আইনি অনুমোদন পেলেও এই প্রথম কোনও ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্যাসিভ ইউথেনেসিয়ার অনুমতি দিল দেশের শীর্ষ আদালত। অ্যাক্টিভ ইউথেনেসিয়া এখনও বেআইনি এ দেশে
