পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এই ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত রেখা রাঠোর, যিনি প্রায় ১৫ বছর ধরে শান্তি বেনের পরিবারের সঙ্গে পরিচিত ছিলেন। প্রথমে গৃহকর্মী হিসেবে কাজ শুরু করলেও পরবর্তীতে তাঁদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে রেখা নিজস্ব ফার্নিচারের ব্যবসা শুরু করেন। প্রায় এক বছর আগে, ব্যবসার কাজে সাহায্য করার জন্য শান্তি বেন রেখাকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সোনার গয়না ও নগদ অর্থ ধার দেন। কিন্তু সেই সম্পত্তি ফেরত চাওয়াকে কেন্দ্র করেই এই নৃশংস ঘটনার সূত্রপাত বলে মনে করছে পুলিশ।
advertisement
আরও পড়ুন: ‘ভোটবাক্সে বদলা হবে’, IAS-IPS অফিসারদের অপমান নিয়ে সরব মমতার নিশানায় একজোগে বিজেপি ও কমিশন
তদন্তে উঠে এসেছে, ২২ মার্চ রাতে একটি বৈঠকের অজুহাতে শান্তি বেনকে রেখার দোকানে ডাকা হয়। সেখানে তাঁকে প্রথমে মাদক প্রয়োগ করা হয় এবং তারপর নির্মমভাবে খুন করা হয় বলে অভিযোগ। অভিযুক্তরা অপরাধের প্রমাণ মুছে ফেলতে শান্তি বেনের দেহ একটি বস্তায় ভরে পালানপুরের একটি পরিত্যক্ত শোরুমের বেসমেন্টে ফেলে দেয়। নিখোঁজ ডায়েরি হওয়ার পর পুলিশ তদন্ত শুরু করে এবং সূত্রের ভিত্তিতে দেহ উদ্ধার করে।
আরও পড়ুন: ‘দিদি যা বলেছেন…’, মমতার কাছে লালবাতি নিয়ে ‘বকুনি’ খাওয়ার পর জামুড়িয়ার তৃণমূল প্রার্থী কী বললেন?
এই ঘটনায় শোকাহত ও ক্ষুব্ধ শান্তি বেনের পরিবার, যার মধ্যে রয়েছেন তাঁর মেয়ে ন্যান্সি ও বোন কৈলাশ বেন। তাঁরা থানায় বিক্ষোভ দেখিয়ে দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। এমনকী তাঁরা প্রাথমিকভাবে দেহ গ্রহণ করতেও অস্বীকার করেন এবং অভিযুক্তদের প্রকাশ্যে শাস্তি দেওয়ার দাবি তোলেন।
ইতিমধ্যে রেখা রাঠোর ও তাঁর এক সহযোগীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আরও তিনজন অভিযুক্তের খোঁজে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। এই ঘটনায় খুন, অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র এবং প্রমাণ নষ্ট করার অভিযোগে মামলা দায়ের হয়েছে। পুলিশ এখন অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদ চালিয়ে যাচ্ছে, যাতে সোনার গয়না উদ্ধার করা যায় এবং শান্তি বেনকে ঠিক কী ধরনের মাদক খাওয়ানো হয়েছিল তা জানা যায়। এই নৃশংস ঘটনার তদন্ত এখনও চলছে এবং শীঘ্রই আরও তথ্য সামনে আসবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
