সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ, প্রধান বিচারপতি জানিয়েছেন ওই অধ্যায় রয়েছে এমন সবক’টি বই ‘বাজেয়াপ্ত’ করতে হবে এবং পাশাপাশি, স্পষ্ট ভাবে জানিয়ে দিয়েছে, কেউ যদি ওই বইয়ের কপি কারওকে দেন, তাহলে তাঁর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে৷ এসবের পাশাপাশি, NCERT চেয়ারম্যান প্রফেসর দীনেশ প্রসাদ সাকলানির এবং স্কুল শিক্ষার সচিবের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার নোটিস পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে আদালত৷
advertisement
আরও পড়ুন: ‘পরিকল্পিত পদক্ষেপ,’ NCERT-র অষ্টম শ্রেণীর বই নিয়ে চূড়ান্ত ভর্ৎসনা সুপ্রিম কোর্টের
প্রাথমিক ভাবে আদালতের মনে হয়েছে, এই বইয়ের মুদ্রণ একটি গুরুতর অসদাচরণ এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে তা, বিচারবিভাগকে কলঙ্কিত করার জন্য ‘ইচ্ছাকৃত’ কাজ হিসাবে মনে করা হবে৷ সেক্ষেত্রে, এটি গুরুতর অপরাধমূলক আদালত অবমাননার মামলা হবে বলে মনে করছে শীর্ষ আদালত৷
NCERT-র হয়ে আদালতে সওয়াল করছেন সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা৷ এদিন তাঁর উদ্দেশ্যে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তকে বলতে শোনা যায়, ‘‘আমরা এর গভীর তদন্ত চাই৷ প্রতিষ্ঠানের প্রধান হিসাবে আমার দায়িত্ব এ বিষয়ে সম্পূর্ণ জবাবদিহি নিশ্চিত করা৷ মাথা উঁচু করে কাজ করতে হবে৷’’
প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘‘আমরা জানতে চাই, এর পিছনে কারা কারা আছে৷ আমি যতদিন না এর সঠিক জবাব পাচ্ছি, ততদিন পর্যন্ত মামলার শুনানি চালাব৷ ওরা গুলি চালিয়েছে, আজ বিচারবিভাগ রক্তাক্ত৷’’ বিষয়টিকে অত্যন্ত ‘গভীর চক্রান্ত’ এবং ‘ক্যালকুলেটেড মুভ’ বলে অভিহিত করেন প্রধান বিচারপতি৷
বুধবার এনসিইআরটি-র পাঠ্যপুস্তকে বিশেষ শব্দবন্ধের ব্যবহার নিয়ে চূড়ান্ত কড়া প্রতিক্রিয়া জানান সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত৷ এনসিইআরটি-র অষ্টম শ্রেণীর পাঠ্যপুস্তকে ‘judicial corruption’ অর্থাৎ, বিচার বিভাগীয় দুর্নীতি শব্দবন্ধের ব্যবহারের সমালোচনা করে শীর্ষ আদালত। বুধবার আইনজীবী কপিল সিব্বল এবং অভিষেক মনু সিঙ্ঘভি এনসিইআরটি-র অষ্টম শ্রেণির সমাজবিজ্ঞানের বইয়ের ‘সমাজে বিচারব্যবস্থার ভূমিকা’ অধ্যায়ের প্রসঙ্গটি শীর্ষ আদালতে পেশ করেন। আর তা শুনেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত।
তারপরেই অবশ্য NCERT জানায়, সমাজে বিচারব্যবস্থার ভূমিকা সংক্রান্ত অধ্যায়টি সংশোধন করা হবে অষ্টম শ্রেণির পাঠ্য থেকে। বাদ দেওয়া হবে অবমাননাকর অংশগুলি। তারপরেও গোটা বিষয়টির পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চাইছে সুপ্রিম কোর্ট৷
