গত সোমবার রাজ্য সফরে এসেছিলেন অমিত শাহ৷ বুধবার দিল্লি ফেরেন তিনি৷ তার আগে কলকাতায় দলের সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি৷ সায়েন্স সিটিতে কলকাতা এবং সংলগ্ন চারটি সাংগঠনিক জেলার নেতাকর্মীদের নিয়েও সভায় বক্তব্য রাখেন শাহ৷ শহর ছাড়ার আগে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী, বর্তমান রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এবং দুই প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার এবং দিলীপ ঘোষকে নিয়েও আলাদা বৈঠক করেন অমিত শাহ৷
advertisement
তার পরেও শুক্রবার দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যকে দিল্লিতে তলব করেছিলেন অমিত শাহ৷ সূত্রের খবর, রাজ্যে সংখ্যালঘু প্রভাবিত যে চল্লিশ বিধানসভা রয়েছে, সেখানে বিজেপি-র সাংগঠনিক শক্তি নিয়ে খোঁজখবর নেন শাহ৷ কিন্তু ওই বিধানসভাগুলিতে যে বিজেপি-র কার্যত দাঁত ফোটানোর ক্ষমতা নেই, বৈঠকে তা একরকম স্বীকার করেন নেওয়া হয়৷
এর পাশাপাশি রাজ্যের বাকি যে কেন্দ্রগুলিতে তৃণমূলের তুলনায় বিজেপি সাংগঠনিক ভাবে দুর্বল, সেখানে ভোট কাটার কৌশল হিসেবে কীভাবে অন্য দলগুলিকে ব্যবহার করা যায়, তা নিয়েও বৈঠকে কথা হয়েছে বলে সূত্রের খবর৷ বৈঠকে মতুয়া সম্প্রদায় প্রভাবিত বিধানসভাগুলির রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং এসআইআর নিয়েও কথা হয় শাহ-শমীকের৷
তবে এ দিনের বৈঠকেও প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের প্রসঙ্গ আলোচনায় উঠেছে বলে খবর৷ কলকাতায় তিনি নির্দেশ দিয়ে যাওয়ার পরেও দিলীপ ঘোষ রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করে দলকে অস্বস্তিতে ফেলছেন বলে শাহ শমীকের কাছে উষ্মা প্রকাশ করেন বলে খবর৷ এমন কি, দিলীপকে সক্রিয় করানোর জন্য তিনিই যে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে তদ্বির করেছিলেন, শমীককে সেকথাও মনে করিয়ে দেন শাহ৷
বিজেপি রাজ্য সভাপতির দাবি, কলকাতায় ব্যস্ত সূচির মধ্যে তাঁর সঙ্গে আলাদা করে বৈঠক করতে পারেননি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী৷ সেই জন্যই তাঁকে শুক্রবার দিল্লিতে তলব করা হয়৷
