বিরোধ কী নিয়ে ছিল
হুজুর তহসিলের নয়াপুরা এলাকায় অবস্থিত ১৬.৬২ একর জমি নিয়ে বিরোধটি কেন্দ্রীভূত ছিল। এই জমিটি একসময় ভোপাল রাজ্যের রাজপরিবারের অন্তর্গত বলে বিবেচিত হত। মামলায় নয়াপুরার তিন স্থানীয় বাসিন্দা দাবি করেছেন যে, জমিটি তাঁদের বাবা প্রয়াত ওয়াকিল আহমেদকে ১৯৩৬ সালে ভোপালের শেষ নবাব হামিদুল্লাহ খান ইনায়েত বা উপহার হিসেবে দিয়েছিলেন।
advertisement
দাবিদারদের কী বলার ছিল
তাঁরা দাবি করেছেন যে তাঁদের বাবা এবং তাঁদের পূর্বপুরুষরা রাজকীয় যুগে নবাবের সেবা করেছিলেন, যার বিনিময়ে তাঁদের জমিটি দেওয়া হয়েছিল। তাঁরা আদালতে যুক্তি উপস্থাপন করেন, যার মধ্যে রয়েছে পুরনো রাজস্ব রেকর্ড, জমির উপর ক্রমাগত দখল, কক্ষ নির্মাণ, তত্ত্বাবধায়ক নিয়োগ এবং বসবাসের জন্য অন্যদের কিছু অংশ ভাড়া দেওয়া। তাঁরা দাবি করে যে তাঁরা বছরের পর বছর ধরে জমিটি ব্যবহার এবং রক্ষণাবেক্ষণ করে আসছেন।
আদালত কেন দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে
আদালত তার আদেশে স্পষ্টভাবে বলেছে যে বাদীরা দৃঢ় প্রমাণ সহকারে উপহার প্রমাণ করতে পারেনি। আদালত আরও স্বীকার করেছে যে ১৯৪৯ সালে ভারত সরকারের সঙ্গে স্বাক্ষরিত ভোপাল একীভূতকরণ চুক্তিতে জমিটি মনসুর আলি খান পতৌদির ব্যক্তিগত সম্পত্তি হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছিল। আদালতের রেকর্ড থেকে জানা গিয়েছে যে পারিবারিক বিভাজনের পরে এই মামলা দায়েরের অনেক আগে ১৯৯৮ সালে পতৌদি পরিবার ১২.৬২ একর জমি একজন নির্মাতার কাছে বিক্রি করেছিল।
রাজপরিবারের জন্য বড় স্বস্তি
আদালতের এই সিদ্ধান্ত কেবল সইফ আলি খান এবং তাঁর পরিবারকে আইনত শক্তিশালী অবস্থানে রাখল না, বরং বছরের পর বছর ধরে চলে আসা এই বিরোধেরও অবসান ঘটাল। ভোপালের রাজকীয় সম্পত্তি সম্পর্কিত অন্যান্য মামলাতেও এই সিদ্ধান্তকে একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
এই সিদ্ধান্ত কেন গুরুত্বপূর্ণ
ভোপালের মতো শহরে যেখানে জমির দাম আকাশছোঁয়া, রাজপরিবারের সম্পত্তি নিয়ে প্রায়শই বিরোধ দেখা দিয়েছে। এই সিদ্ধান্ত স্পষ্ট করে দেয় যে কেবল পুরনো রেকর্ড বা দাবিই যথেষ্ট নয়; কেবল শক্ত আইনি প্রমাণই মালিকানা নির্ধারণ করে।
