এ দিন শিলিগুড়িতে আদিবাসীদের একটি সম্মেলনে এসে রাজ্য প্রশাসনের বিরুদ্ধে অনুষ্ঠান আয়োজনে অসহযোগিতার অভিযোগে সরব হন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু৷ রীতি মেনে মুখ্যমন্ত্রী অথবা রাজ্যের কোনও মন্ত্রী কেন তাঁকে স্বাগত জানাতে যাননি সেই প্রশ্নও তোলেন রাষ্ট্রপতি৷ আদিবাসীদের উন্নয়নেও বাধা সৃষ্টির অভিযোগে সরব হন তিনি৷ মুখ্যমন্ত্রীর নাম করেই রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘মমতাদিদি আমারও ছোট বোন৷ জানি না, হয়তো আমার উপরে কোনও কারণে রাগ করেছেন৷’ যদিও রাষ্ট্রপতির এই অভিযোগ উড়িয়ে তাঁর বিরুদ্ধে পাল্টা রাজনীতি করার অভিযোগে সরব হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷
advertisement
শনিবার সন্ধ্যায় শিলিগুড়ির ঘটনার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী এক্স হ্যান্ডেলে লেখেন, ‘এটি লজ্জাজনক এবং নজিরবিহীন ঘটনা। গণতন্ত্র এবং আদিবাসীদের ক্ষমতায়নে বিশ্বাসী মানুষজন প্রত্যেকেই এই ঘটনায় মর্মাহত। আদিবাসী সম্প্রদায় থেকেই উঠে আসা মাননীয়া রাষ্ট্রপতি যে বেদনা ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, তা দেখে দেশের মানুষ ব্যথিত। পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল সরকার সত্যিই সব সীমা ছাড়িয়ে গিয়েছে৷ রাষ্ট্রপতির এই অপমানের জন্য রাজ্য প্রশাসনই দায়ী৷ আদিবাসী সংস্কৃতির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে পশ্চিমবঙ্গ সরকার যেভাবে উপেক্ষা করছে তাও অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক৷ রাষ্ট্রপতির দফতর রাজনীতির ঊর্ধ্বে এবং তার পবিত্রতাকে সবার সম্মান জানানো উচিত৷ পশ্চিমবঙ্গ সরকার এবং তৃণমূলের শুভবুদ্ধির উদয় হবে, এটাই সবাই আশা করে৷’
আরও পড়ুন: ‘বিজেপি-র ফাঁদে পড়েছেন, ভোটের আগে রাজনীতি করবেন না’, রাষ্ট্রপতি মুর্মুকে জবাব দিলেন মমতা
রাষ্ট্রপতির উপস্থিতিতে শনিবার প্রথমে এই অনুষ্ঠান হওয়ার কথা ছিল শিলিগুড়ির বিধাননগরে৷ কিন্তু ছোট জায়গার অজুহাতে প্রশাসন অনুষ্ঠানের আয়োজনের অনুমতি বিধাননগর থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে বাগডোগরা বিমানবন্দরের কাছে গোঁসাইপুরে৷ শুধু তাই নয়, অনুষ্ঠানে মঞ্চ সাজানো থেকে শুরু করে মঞ্চ ঠিক মোত না সাজানো, শৌচালয়ের অব্যবস্থার মতো অভিযোগও তোলেন অনুষ্ঠানের উদ্যোক্তারা৷ এ দিন রাষ্ট্রপতি অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছলে তাঁর সামনেই এই সমস্ত অভিযোগ তুলে সরব হন অনুষ্ঠানের উদ্যোক্তারা৷
গোঁসাইপুরের অনুষ্ঠান স্থল থেকেই আচমকা রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু বিধাননগরে চলে যান৷ প্রথমে সেখানেই অনুষ্ঠান হওয়ার কথা ছিল৷ সেখানে পৌঁছেই রাষ্ট্রপতি প্রশাসনের ভূমিকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন৷ দ্রৌপদী মুর্মু বলেন, ‘আজ আন্তর্জাতিক সাঁওতাল কাউন্সিলের সম্মেলন ছিল৷ এখানে এসে আমি দেখলাম এত বড় মাঠ ছিল৷ এখানেই অনুষ্ঠান হতে পারত৷ জানি না প্রশাসনের মনে কী হল৷ আমি তো সহজেই এখানে এসেছি৷ কিন্তু প্রশাসন নাকি বলেছে এখানে ভিড় হয়ে যাবে৷ কিন্তু আমি তো দেখছি এখানে ৫ লক্ষ লোকেরও জমায়েত হতে পারবে৷ এখানকার প্রশাসনিক দায়িত্বপ্রাপ্তরা তো খুবই বুদ্ধিমান৷ জানি না কেন এখানে অনুষ্ঠান করতে দিল না৷ যেখানে অনুষ্ঠান করা হচ্ছে সেখানে সাঁওতালরা সবাই যেতে পারবেন না৷ আমার মনে হল, এখানকার ভাইবোনরা সবাই অনুষ্ঠানে যেতে পারবেন না৷ তাই ভাবলাম আমিই আপনাদের কাছে আসি৷ আপানারা কেমন করে থাকেন, দেখে আসি৷’
এখানেই না থেমে রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, ‘হয়তো প্রশাসন ভেবেছিল ওখানে কেউ যেতে পারবেন না৷ তাই রাষ্ট্রপতি এসে ফাঁকা জায়গায় অনুষ্ঠান করেই ফিরে যাবেন৷ সবকিছু দেখে আমি খুবই দুঃখিত৷ জানি না প্রশাসনের মনে কী ছিল৷ সাধারণত রীতি অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি এলে মুখ্যমন্ত্রী, রাজ্যের মন্ত্রীদের উপস্থিত থাকার কথা৷ কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী ম্যাডাম তো আসেননি৷ আর রাজ্যপাল তো বদলই হয়ে গিয়েছেন৷ কিন্তু আগে থেকে অনুষ্ঠান ঠিক ছিল বলে আমি চলে আসলাম৷ আমি তো বাংলারও মেয়ে৷ কিন্তু আমাকে তো এখানে আসতেই দেন না৷ মমতাদিদি আমারও ছোট বোন৷ জানি না, হয়তো আমার উপরে কোনও কারণে রাগ করেছেন৷ যাই হোক, আমার কোনও অভিযোগ নেই৷ উনিও ভাল থাকুক৷ আপনারাও ভাল থাকবেন৷’
যদিও রাষ্ট্রপতিকে জবাব দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ দিন সন্ধ্যায় বলেন, ‘বিজেপি সংবিধানকে কোথায় নিয়ে গিয়েছে সংবিধানকে৷ মাননীয়া রাষ্ট্রপতিকে দিয়েও বিজেপি-র বেচতে পাঠানো হয়েছে৷ আপনি বিজেপি-র ফাঁদে পা দিয়েছেন৷ ভোটের আগে রাজনীতি করবেন না৷ আপনি খুঁজে নিন বাংলায় আমরা কাজ কী করেছি আদিবাসীদের জন্য। আপনি খোঁজ নিয়েছেন আদিবাসীদের নাম বাদ গিয়েছে ভোটার লিস্ট থেকে? যখন রক্ত ঝরত তখন কোথায় ছিলেন? বিজেপি তখন কোথায় ছিল? আপনাকে অনুরোধ করব, এমন কিছু বলবেন না যা আপনাকে শোভা পায় না৷’
